নাজমুল হুদা ও সিফাত উল্লাহ ( বরিশাল)
পদে পদে টাকা না দিলে কাজ হয় না বরিশাল সাব রেজিস্ট্রি ও সেটেলমেন্ট অফিসে। এসব অফিসের বিভিন্ন পদের কর্মচারীরা ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তবে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সবকিছু অস্বীকার করে অভিযুক্তরা।
বরিশাল সাব রেজিস্ট্রি অফিসের তৃতীয় তলায় দলিল সার্স দিতে আসা এক গ্রাহক সরকারি ফি জমা দেবার সঙ্গে সঙ্গে তা কাড়াকাড়ি করে ভাগাভাগি করে নেয় তল্লাশিকারক খন্দকার নাছির উদ্দিন ও জাহিদ হাসান। সরকারি টাকা কোষাগারে জমা না দিয়ে কাড়াকাড়ি-ভাগাভাগি কেন করলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, কোনো টাকা ভাগাভাগি হয়নি, বিষয়টি সম্পূর্ণই মজা করেছেন বলে দাবি করেন তারা, তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, বিভিন্ন কাজে সরকারি ফি নির্দিষ্ট থাকলেও অতিরিক্ত ফি ছাড়া কোনো কাজই হয় না।
আবু বকর নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘সাব রেজিস্ট্রি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো করা যায় না। প্রতিটি টেবিলের জন্য নির্দিষ্ট টাকা বরাদ্দ থাকে। টাকা না পৌঁছালে কোনো দলিলের কাজ আগায় না। অতিরিক্ত টাকা দেয়া এ অফিসের নিয়ম। তন্ময় রাড়ি নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, তিন মাস ঘুরে সরকারি ফি জমা দিয়ে দলিল ঠিক করতে চেয়েছেন তিনি। পরে না পেরে ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে হয়েছে তাকে।
করিম হোসেন নামে এক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘আমরা শহরে আমি থেকেই সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়মের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারি না। গ্রাম থেকে আসা মানুষদের আরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি জেলা রেজিস্ট্রার!
তবে বরিশাল সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড কিপার বিধান চন্দ্র সুতার তল্লাশিকারকদের নির্দিষ্ট ফির চেয়ে বেশি টাকা নেবার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, যথাযথ প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেবেন তিনি!
শুধু বরিশাল সাব রেজিস্ট্রি অফিসই নয়, সেটেলমেন্ট অফিসেরও একই অবস্থা। সেখানেও ছোট-বড় সব কাজের বিনিময়েই চলছে অতিরিক্ত টাকার লেনদেন। এমনকি ছদ্মবেশে গেলে সময়ের প্রতিবেদকের কাছেও ৫০০ টাকার বিনিময়ে সব কাজ করে দেবার কথা জানান অফিসের সার্ভে সহায়ক মজিবর রহমান। যদিও পরে সবকিছু অস্বীকার করেন তিনি!
তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ঘুষ বাণিজ্য করিনি। আমি কারোর কাছে টাকা চাইনি।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার বিকাশ চন্দ্র হাওলাদার বলেন, ‘অফিসের কেউ যদি ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বরিশাল জেলায় জমির মৌজার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০টি। এ ছাড়া ৬৯টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ১০টি উপজেলা ভূমি অফিস রয়েছে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.