নুর আলম, চীফ রিপোর্টার:
মাদারীপুরের শিবচরে টিয়েন্স পণ্য নামে একটি এমএলএম (মাল্টি লেভেল মার্কেটিং) প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ডাক্তারের মাধ্যমে লেভেল বিহীন ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা এবং বিভিন্ন কমদামি প্রোডাক্ট শতগুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে এসব প্রতারণা করে আসছে কথিত ডেস্ট্রিবিউটর (সদস্য) সাহিদা ম্যাডাম (৩৫) নামে এক মহিলা।
চান্দেরচর বাজার সংলগ্ন হাটের দক্ষিণ পাশে লিয়াকত ডাক্তারের বাড়িতে জে এম এন্টারপ্রাইজ নামে সাইনবোর্ডে এসব প্রতারণা করে চলছে সাহিদা ম্যাডাম।
প্রতারণার শিকার কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে তাদের বলা হয়েছে এই কোম্পানিতে ১৮ হাজার টাকায় ডিস্ট্রিবিউটর পদে ভর্তি হলে প্রতি মাসে ৫-১০ হাজার টাকা ইনকাম হবে এবং ১৮ হাজার টাকার পণ্য সাথে সাথেই দিয়ে দেয়া হবে। তবে টাকা নেয়ার পর নির্ধারিত মূল্যের পণ্য দেয়নি সাহিদা। ১ টি ব্রেসলেট এর মূল্য রাখা হয়েছে ৮ হাজার টাকা যা বাইরে ২০-৩০টাকায় পাওয়া যায়। পেটের সমস্যা এবং মাথা ব্যাথার ঔষধ দিয়ে ১০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। পরে টাকা ফেরত চাইলে তিনি জানান কথিত রাসেল বস নামে একজনকে টাকা দিয়ে দিয়েছেন তিনি। টাকা পেতে হলে তাদেরকেও দুজন করে লোক ভর্তি করানো লাগবে। নয়তো টাকা দেয়া হবেনা।
বিষয়টি জানার জন্য চান্দেরচর বাজারের অফিসে ঢুকলে সাংবাদিককে বেঁধে রাখার হুমকি দেন সাহিদা। তিনি বলেন হাইকোর্ট তাদের রায় দিয়েছে এমএলএম ব্যাবসা করার জন্য।
ডাক্তার ছাড়া কিভাবে পেটের অসুখ ও মাথা ব্যাথার ঔষধ দেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কনসালটেন্ট আছে। কনসালটেন্টের কোর্স কোনো মেডিকেল কলেজে করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে রেগে যান অফিসে থাকা কথিত কয়েকজন ডিস্ট্রিবিউটর। ঔষধ গুলো কোথা থেকে আসে বা বিএসটিআইয়ের লেভেল প্যাকেজিংয়ে মোড়কবদ্ধ কি না জানতে চাইলে কিছুই বলেননি তিনি। উল্টো সাথে থাকা লোকদের সাংবাদিকের ভিডিও করতে বলেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিককে বেঁধে রাখার হুমকি দেন। প্রশাসনের লোক দিয়ে বাঁধবেন নাকি সন্ত্রাসী দিয়ে বাঁধবেন জানতে চাইলে অফিসে বসে থাকা একজন (নাম পরিচয় না বলে) বলেন, আমাদের প্রশাসন দরকার নেই।
কথিত সেভেন স্টার পদমর্যাদার জাকারিয়া নামে আরেক ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিবেদককে বলেন, তারা বাংলাদেশি টাকায় কোনো পণ্য বিক্রি করেন না ডলার হিসেবে যা দাম আসে তাই নেন।
তিনি আরও বলেন, ২০০২ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব টিয়েন্স কোম্পানির ঔষধ খেয়ে ব্যাপক উপকার পায় এবং জাতিসংঘের একটি পতাকা টিয়েন্সকে উপহার দেয়। যেটি তাদের হেড অফিসে টাঙানো আছে। তাদের কোম্পানি ২'শ ২৪টি দেশে এই ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছে। তিনি ২৫'হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করেছেন।
জে এম এন্টারপ্রাইজ নামে ট্রেড লাইসেন্স নেয়া জাভেদ মুন্সি জানান, আমি জানতাম না সাহিদা কি ব্যাবসা করছে। আমি জানি সে এমএলএম পদ্ধতিতে পণ্য বিক্রি করছে। আমি এসবের সাথে জড়িত নই। আমি দ্রুতই ওর সাথে চুক্তি বাতিল করবো।
স্থানীয় মুদি দোকানি এবং ইউপি সদস্য সিরাজ ফকির নামে একজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছি ছেলে মেয়ে একসাথে অফিসটিতে ঢুকে এবং বের হয়। কিছু জিজ্ঞেস করলে বলে না। শুধু বলে পণ্য বিক্রি করি। পরে শুনলাম এটা ডেসটিনির মতো কোম্পানি।
এ বিষয়ে টিয়েন্স এর কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার পার্থ প্রতীম চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি জানান তারা মূলতঃ ফুড সাপ্লিমেন্ট নিয়ে কাজ করেন কোন ঔষধ বিক্রি করেন না যদি কোনো ডিস্ট্রিবিউটর সাধারণ জনগণকে ঔষধের কথা বলে ডিস্ট্রিবিউটর বানানোর মিথ্যা অফার দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে কোম্পানি তার নিজস্ব আইনে ব্যাবস্হা গ্রহণ করবেন।
বিষয়টি শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাজিবুল ইসলামকে জানালে, তিনি প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা রেখে দেন। এবং দ্রুতই তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আস্বস্ত করেন।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.