
মোঃ রাজিব
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
ঘরে শয্যাশায়ী শাসকষ্টে আক্রান্ত ষাটোর্ধ বৃদ্ধা মা। চার মেয়ের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী রিয়ামনি মানসিক ভারসাম্যহীন। নেই মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও। বেড়িবাঁধের বাইরে খড়কুটা দিয়ে যে আবাসস্থল গড়েছিলেন তাও হারিয়েছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে। তাই পলিথিনের ছাউনির নিচে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েকে বেঁধে রেখে বেরিয়ে পড়েন গৃহপরিচারিকার কাজে। আর মাঝে মধ্যে আহার যোগাতে ব্যর্থ হলে সেদিন অনাহারে থেকেই কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়েন সন্তানেরা। তাই বেঁচে থাকার ক্ষীণ আশাটুকু নিয়ে ঠিক এভাবেই চলছে এক স্বামী পরিত্যক্তার জীবন সংসার।
মোসা. আবেজান বিবি নিতান্তই গরিব জেলে পরিবারের সন্তান হওয়ায় একাধিক কন্যাসহ ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়েছেন স্বামী। আর বাবা মজিদ মিয়া জেলে পেশায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় রোগাক্রান্ত হয়ে পৃথিবী ছেড়েছেন প্রায় দুই যুগ আগে। স্বামী পরিত্যক্তা এই নারীর বসবাস উপজেলার নীলগঞ্জ ইউপির রহমতপুর গ্রামে সরকারি জমিতে তোলা মায়ের ঘরের বারান্দায় ।
গত কয়েক বছর ধরে কোথাও মাথা গোঁজার ঠাই না পেয়ে চার মেয়েকে নিয়ে ওই বারান্দায় পলিথিনের ছাউনি দিয়ে গড়ে তুলেছেন আবাসস্থল। সেখান থেকেই অসুস্থ মায়ের দেখভাল করাসহ কন্যাদের আহার যোগাতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে গৃহপরিচারিকার কাজ করে উচ্ছিষ্ট খাবার সংগ্রহে ব্যর্থ হলে সেদিন অনাহারে থেকেই কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে পড়ে পরিবারের সব চেয়ে ছোট মেয়ে ৩ বছর বয়সী জান্নাতি।
আর মানুষের বাড়িতে ঘামঝড়ানো কষ্টার্জিত যৎসামান্য অর্থও খরচ করতে হয় মায়ের চিকিৎসা ব্যয়ে। তবুও পরম মমতায় পরিবারকে আগলে রাখার অদম্য চেষ্টায় সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন আবেজান বিবি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা মেলে এ অসহায় পরিবারটির করুণ চিত্র। মা আবেজান বিবি পরিবারের জীবিকার তাগিদে বেড়িয়েছেন অন্যের বাড়ির কাজে। দুপুর গড়িয়ে গেলেও মেয়েদের খাবারের কোনো হদিস নেই। তাই কৌটা কুড়িয়ে কাঁচা চাল চিবিয়ে খাচ্ছে মানসিক অসুস্থ মেয়ে রিয়ামনি। আর পলিথিনে মোড়ানো ছাউনি ঘরের ছোট্র রানী জান্নাতি মায়াভরা দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে আছে মায়ের অপেক্ষায়। কিছুসময় অপেক্ষার পর আঁচলে পোটলা নিয়ে গৃহে ছুটে আসেন আবেজান।
জানতে চাইলে অবর্ণনীয় কষ্টের কথা তুলে ধরে কান্না জুড়ে দেন তিনি। জানালেন বাবা হারা, স্বামী হারা সংসারে অসুস্থ মা এবং পাগলি মেয়েসহ চার মেয়েকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রামের কথা। মা আমেনা বেগম শয্যাশায়ী প্রায় ২০ বছর ধরে।
সংসারের অভাব আর একাধিক কন্যা জন্ম নেয়ায় স্বামীও ফেলে গেছেন। আর বাবার মৃত্যুর আগে সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে একমাত্র ভাইয়েরও সলিল সমাধি হয়েছে। তাই পরিবারে উপার্জানক্ষম কেউ নেই। যে ঘরটুকু ছিল রাস্তার পাশে তাও দুর্যোগে হারিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে মায়ের সরকারি ঘরের বারান্দায় পলিথিনের ছাউনি দিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ছাউনিতে বেড়া না থাকায় পাগলি মেয়েসহ কিশোরী মেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। সরকারিভাবে কোনো ঘর তিনি পাননি। সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে পারছেন না বলেও কপালে চিন্তার ভাঁজ।
মা আমেনার দাবি, তার মৃত্যুর আগে মেয়ে আবেজান আর নাতনিদের জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা যেন করেন ওপরওয়ালা।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শংকর চন্দ্র বৈদ্য জানান, আবেজান বিবির কথা কেউ আমাকে অবহিত করেনি। তাকে ঘর দেয়ার জন্য অবশ্যই ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া যতটুকু সম্ভব সাহায্য সহযোগীতা করার চেষ্টা করা হবে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.