
মোঃ রাজিব
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
দেখতে ঠিক বিমানাকৃতির হলেও মূলত যাত্রীদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবিষ্কৃত একটি ঝুঁকিমুক্ত গাড়ি। সৌর শক্তি নির্ভর এই গাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে কেবলই পর্যটকদের বিনোদনের জন্য। আর আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন জ্বালানি তেল বিহীন এই গাড়ি চলবে কুয়াকাটার সৈকতে আগত ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য। তবে গাড়িটির বিশেষত্ব কৌতুহল জাগিয়েছে সব শ্রেণির মানুষের মনে। তার নতুন এই উদ্ভাবন এক নজর দেখতে এই খুদে বিজ্ঞানির বাড়িতে প্রতিদিন ভিড় করছে প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষ।
উপজেলার মহিপুর সদর ইউপির মোয়াজ্জেমপুর গ্রামের নাসির উদ্দিনের পুত্র মাহাবুবুর রহমান শাওন। যিনি মাত্র ৯ বছর বয়সে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাতাসের সাহায্যে পাখা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করেন। এরপর থেকে সৃজনশীল চিন্তাভাবনা নিয়ে উদ্ভাবন করেছেন জ্বালানি তেল ও চালক বিহীন গাড়ি, সি-প্লেন, সিকিউরিটি এলার্ম, স্মার্ট সুইচ, মোবাইল সুইচ, স্মার্ট ফ্রিজ, ড্রোন বিমান, সি-প্লেনের আদলে হোভার ক্রাভটসহ আরো অনেক যন্ত্র।
এবার গত কয়েকমাস ধরে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য তৈরি করেছেন জ্বালানি তেল বিহীন বিমানাকৃতির গাড়ি। তবে এই গাড়ির একাধিক বিশেষত্ব রয়েছে । যার স্বয়ংক্রিয় অটোমোশন চালু থাকলে পরিবেশ বান্ধব এই গাড়ি নিজ থেকেই হর্ণ দিয়ে জানান দেয়ার পাশাপাশি থেমে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। কোনো মানুষ যদি ভুলক্রমে এই গাড়ির সামনে এসে পড়ে তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজ থেকেই নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে।
এছাড়া নিজ থেকে সিগনাল বাতি জ্বালিয়ে অন্য যানবাহনকে সংকেত দিতে পারবে এই গাড়ি। অন্য কোনো গাড়ি কিংবা যানবাহন কাছাকাছি এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটির আলো হাই পাওয়ার থেকে লো মুডে নিয়ন্ত্রণে যাবে। এমনকি গাড়িটি চুরি যাওয়ার সুযোগও নেই। কারণ গাড়ির ভেতরে থাকা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা কল করে মালিককে জানান দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে। ফলে মালিক মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই বন্ধ করে দিতে পারবেন দরজাসহ সকল সিস্টেম।
২৭ বছর বয়সী তরুণ এই বিজ্ঞানী জানান, এ আবিষ্কার শুধুমাত্র দূর-দূরান্ত থেকে সাগরকন্যা কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের নিরাপদ বিনোদনের কথা চিন্তা করে করা হয়েছে। এটি একটি জ্বালানি বিহীন পরিবেশ বান্ধব গাড়ি এবং বিদ্যুৎ খরচ হ্রাস করবে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকায় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব। ফলে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ। বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত। এছাড়া গাড়িটি চালককে জরুরি সময়ে ড্রাইভ করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ প্লানেটর কলেজ’র রোবটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এই খুদে বিজ্ঞানী বলেন, বাবার জমি এবং মায়ের স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রেখে প্রায় ৪ লাখ টাকায় গত ৬ মাস ধরে নিজ বাড়িতে সিংহভাগ নির্মাণ কাজ শেষ করেছেন তিনি। তবে স্বয়ংক্রিয় বেশ কিছু মেশিনারিজ অংশ কিনতে অর্থাভাবে রয়েছেন। এগুলো সংযুক্ত করা হলে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এটি পর্যটকদের জন্য কুয়াকাটার সৈকতে প্রদর্শনী করা হবে।
কলাপাড়া সরকারি মোজহার উদ্দিন বিশ্বাস সরকারি অনার্স কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. ইউসুফ আলী বলেন, এই তরুণের আবিষ্কারগুলো আধুনিক প্রযুক্তির। আমি বলবো ওকে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে আরো এগিয়ে যাবে।
কলাপাড়া নির্বাহী অফিসার শংকর চন্দ্র বৈদ্য জানান, আমি সরাসরি দেখিনি। কিন্তু মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছি, এই শাওন আধুনিক প্রযুক্তির বেশ কিছু আবিষ্কার করেছেন। তবে খোঁজ খবর নিয়ে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগিতা করা হবে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.