মোঃ রাজিব
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
বঙ্গবন্ধু যেদিন আইছেলে ভিড় ঠেইল্লা হ্যারে দেখতে গেছি। হুনছি হের মাইয়া শেখ হাসিনা মানষেরে কত কিছু দেয়। কিন্তু মোগো খবর কেউ কি হেরডে কয়না। ভেজা কণ্ঠে আবেগ মাখা কথার মাঝে বার বারই চোখ মুছছিলেন বৃদ্ধ। আর পাশেই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন তার দুঃখের সারথী বৃদ্ধা স্ত্রী।
মো. রফেজ হাওলাদারের বয়স ৮০ বছর, আর বৃদ্ধা স্ত্রী মমতাজ বেগমের বয়সও ৭৫ বছর। প্রবীণ এই দম্পতি উপজেলার টিয়াখালী ইউপির ইটবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। বসবাস মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান সড়কের পাদদেশে পলিথিন আর ছেড়া কাপড়ে নির্মিত বেড়াহীন ঝুপড়ি ঘরে। সিডর পরবর্তী সেখানেই বৃদ্ধা স্ত্রীকে নিয়ে জীবন সংসার চলছে প্রায় ১৬ বছর ধরে।
যৌবনে দিন বদলার কাজ করতেন এই বৃদ্ধ। তবে বয়সের ভাড়ে এখন রোগাক্রান্ত হয়ে নূয়ে পড়েছেন। তাই চলাচল করতে হয় লাঠিতে ভর করে। পৈত্রিক ভিটায় তিন কাঠা জমি পেয়েছিলেন তাও বিক্রি করে অর্থ নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন একমাত্র পুত্র সন্তান শহীদুল। এখন তাদের দেখভাল করার মতোও পাশে নেই কেউ। মাঝে মধ্যে স্থানীয় এক যুবকের মানবিকতায় চাল ডালের ব্যবস্থা হলে আহার যোটে। নয়তো অর্ধাহারে অনাহারেই দিনাতিপাত করেন এই বয়ষ্করা।
সরেজমিন দেখা যায়, সড়ক থেকে শুকনা পাতা কুড়িয়ে স্বামীর জন্য উনুনে গরম ভাত রান্না আর সিম সিদ্ধ করছেন প্রিয়তমা স্ত্রী। বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে তাই তরিঘড়ি করছেন বৃদ্ধ মানুষটার মুখে খাবার তুলে দেবেন বলে। জানতে চাইলে কথা হয় মমতাজ বেগমের সঙ্গে। জানালেন গত বছর কুরবানির ঈদে গোশত খেয়েছেন এই দম্পতি। আর স্থানীয় যুবক রহিমের সহায়তার চাল ডালে নির্ভর করে চলছে সংসার। তা নিয়ে চিন্তা নেই তাদের। দুশ্চিন্তা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ত্রিফলের ছাউনির নিচে কিভাবে রাত্রি যাপন করবেন অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে।
রফেজ হাওলাদার বলেন, ‘অনেক স্যারেরা আসছে আমাগো দেখতে। কিন্তু একটা ঘর কেউ দেয় নাই। রাইতে অনেক ভয় লাগে। বেড়া নাই সাপ ঢুকতে পারে যে কালে মোল্লায় হে কালে। আমি তো বঙ্গবন্ধুরে ধারে যাইয়া দেখছি। এহন নৌকা মার্কার সরকার। স্বামী-স্ত্রী দুই জনেই তো নৌকায় ভোট দি। আমি ঘর পাই না ক্যা। একটা ঘর দেন না স্যার। এবছর বৃষ্টিতে ভেজলে আর বাচমু না।’
স্থানীয় মানবিক যুবক রহিম জানান, দীর্ঘবছর রাস্তার ঢালে দুইজন বয়ষ্ক মানুষ বসবাস করছে। আমি সাধ্যের মধ্যে তাদের সহায়তার চেষ্টা করে যাচ্ছি। একটা মশারি পর্যন্ত ছিল না তাদের। যেখানে এই মুরুব্বিরা বসবাস করেন সেখানে কোনো প্রাণী বসবাসযোগ্য না। এমনকি ওষুধ পর্যন্ত খেতে পারেন না তারা।
স্থানীয় লিটন জানান, আগে বেরিবাঁধের বাইরে বসবাস করতেন এই বৃদ্ধরা। কিন্তু সিডরে সেই ঘর ভেঙে যাওয়ায় তাদের কোথাও মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়নি। এরকম অসহায় মানুষকে ঘর দেয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এমনকি কোনো জনপ্রতিনিধিরাও খোঁজ নেন না প্রবীণ এই অসহায় মানুষদের।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শংকর চন্দ্র বৈদ্য জানান, ওনারা ঘর পাইনি এটা দুঃখজনক। তবে আমি তাদের জন্য চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত তারা ঘর পায়। আর আমি নিজে গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.