মোঃ মাসুদ রানা,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ বাণিজ্য।এই অফিসের অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহামুদুল কবীরের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্ম তারিখ, নিজ নাম, পিতার নাম, মাতার নামের বানানের ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য তার নিকট গেলেই তিনি আবেদন পত্রের সাথে ৫ শত ২০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে থাকেন। আবার ঘুষের টাকা নিয়ে অনলাইনে ত্রুটি সংশোধন না করেই শুধু মাত্র সার্টিফিকেটে হাতে লিখে সংশোধন করে দেন বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এতে করে ওইসব শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। ভুক্তভোগী পৌর এলাকার হেলায় গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে
মোছাঃ শারমিন আক্তার মুক্তা ও ছেলে মোঃ সাকিবুল ইসলাম এর সাথে কথা বলে জানা যায়,২০১১ সালে মুক্তা এবং ২০১৫ সালে পরীক্ষার্থী সাকিবের প্রাথমিক শিক্ষা সনদপত্রে নিজেদের ও পিতার নামের বানানের ভুল সংশোধনের জন্য অফিস সহকারি মাহমুদুল কবিরের নিকট গেলে তিনি ১১ শত টাকা দিতে হবে বলে জানান। একই সাথে ২০১১ সালের পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার মুক্তা'র প্রাথমিক শিক্ষা সনদপত্র না থাকার কথা জানালে ঢাকা থেকে তা তুলে এনে দিতে পারবে বলে ১০ হাজার টাকার চুক্তি করেন। টাকা কেন লাগবে জানতে চাইলে অফিস সহকারি সাকিবকে জানাই টিও স্যার সহ অফিসের খরচ বাবদ এই টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাকিব ১১ শত টাকা দেয় অফিস সহকারীকে শুধুমাত্র নামের বানান ভুল সংশোধনের জন্য। কিন্তু টাকা নিয়েও অফিস সহকারি অনলাইনে তাদের দুই ভাই-বোনের নামের ভুল সংশোধন করে দেননি। উপজেলার একতারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০০৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান তোহা তার নামের বানান ভুল সংশোধনের আবেদন করলে অফিস সহকারি তার কাছেও ১ হাজার টাকা দাবি করেন। এভাবেই অপ্রতিরোধ্য অফিস সহকারি মাহামুদুল কবীর শিক্ষার্থীদের বিপদগ্রস্ততার সুযোগ নিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত । অনেকক্ষেত্রে ঘুষ দিয়েও তার কাছ থেকে সঠিক কাজটি পাচ্ছে না সেবা প্রত্যাশীরা। দীর্ঘদিন ধরে অফিসে বসে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্য করে গেলও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা দেখেও দেখেন না। এক কর্মস্থলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ৩ বছর থাকার নিয়ম থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দা এই অফিস সহকারি ৫ বছরেরও অধিক সময় ধরে কালীগঞ্জে চাকরি করে যাচ্ছেন।ইতিপূর্বে তার ঘুষ বাণিজ্যের ব্যাপারে প্রতিবাদ করোও কোন সুফল পাননি ভুক্তভোগীরা।
অফিস সহকারী মাহমুদুল কবিরের সাথে কথা বললে তিনি ঘুষ বাণিজ্যের কথা অস্বীকার করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার বানু বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানিনা। যেকেউ নামের বানান ভুল সংশোধনের ব্যাপারে আবেদন করলে সেটা করে দিই। আর এজন্য কোনো টাকা নেওয়া হয় না। অফিসের কেউ নিয়ে থাকলে সেটাও ঠিক না।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান,এ ব্যাপারে আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.