
নিজস্ব প্রতিবেদক:
লক্ষ্মীপুরে হত্যার ৭ দিন পর মাটিচাপা অবস্থায় মোঃ ইউনুছ নামে এক এনজিও কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাবেদ হোসেনকে আটক করা হয়েছে। কিস্তির টাকা চাওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জাবেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার
(৩১-ই আগষ্ট) সকালে তার দোকানের পেছন থেকে মাটিচাপা অবস্থায় ইউনুছের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইউনুছের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে লক্ষ্মীপুরে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বপন মোস্তফা (ক্রাইম অ্যান্ড আপস) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পাশ্ববর্তী পুকুর থেকে ইউনুছের ব্যবহৃত মোবাইল ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত বৃহস্পতিবার
(২৪-ই আগস্ট) বিকেলে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের কালুহাজী সড়কের জাবেদ হোসেনের দোকানে মোটরসাইকেল নিয়ে কিস্তির আড়াই শ টাকার জন্য আসেন মোঃ ইউনুছ। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরের দিন সদর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন ইউুনছের স্ত্রী সুলতানা জামান। ওই জিডির সুত্র ধরে কালু হাজী সড়ক থেকে গতকাল বুধবার রাতে জাবেদ হোসেনকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে আটককৃত জাবেদ হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে স্বপন মোস্তফা জানান, গ্রামীন মাল্টিপারপাস নামে একটি এনজি থেকে ২০ হাজার টাকা কিস্তি নেন জাবেদ। প্রতি সপ্তাহ ২৫০ টাকা হারে কিস্তি পরিশোধ কর আসছিলেন। ঘটনার দিন কিস্তির টাকা নিয়ে ইউনুছের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় জাবেদের। একপর্যায়ে ইউনুছের মাথায় আঘাত করেন জাবেদ হোসেন। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় তিনি।
হত্যার পর নিজ দোকানের পেছনে মরদেহ মাটিচাপা দেন জাবেদ। এ সময় ইউনুছের ব্যবহৃত মোবাইল ও মোটরসাইকেল পাশ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেন।
পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার
(৩১-ই আগষ্ট) সকালে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে ইউনুছের মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাশ্ববর্তী পুকুর থেকে ইউনুছের ব্যবহৃত মোবাইল ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
নিহতের স্ত্রী সুলনতানা জামানসহ আত্মীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শহরের সমসেরাবাদ এলাকায় দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন তাঁরা। এই হত্যাকাণ্ড জাবেদ হোসেন একা করেননি। তাঁর সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
স্বপন মোস্তফা আরও জানান, কীভাবে ইউনুছকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়টি স্বীকার করেছেন জাবেদ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইউনুছের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রধান অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.