
নুর আলম:
যে কোনো কঠিন সমস্যার সমাধান পাবেন তার কাছে। কোথাও মামলা হলেই ছুটে যান তার সমাধান করতে। বিনিময়ে দিতে হবে টাকা। তবে টাকা তার নিজের জন্য নয়, নেন পুলিশ কিনবা ডাক্তারকে দেয়ার কথা বলে। পরিচয় দেন উপমহাদেশের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত শিল্পী শাহ আব্দুল হালিম চিশতি'র আপন ভাতিজা হিসেবে। দেখতে সহজ সরল হলেও দালালি পেশায় নিজেকে খুব ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। বলছিলাম শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়নের আব্দুল খালেক চিশতির ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মোড়ল ওরফে রাজ্জাক দালাল ওরফে রাজ্জাক পীর (৬০) এর কথা।
জানা গেছে, গত ১২-ডিসেম্বর উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের ফজু-মসাদ মাদবর কান্দি এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিষয়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় একজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এই ঘটনায় ৭ জনকে অভিযুক্ত করে মোতালেব মাদবর নামে এক ব্যাক্তি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিবাদী শাহ আলম ও তার বাবা আনোয়ার হোসেন মাদবর নামে দু'জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। পরদিন আনোয়ার হোসেন জামিনে মুক্তি পেলে তার পীর রাজ্জাক দালাল তাকে এসে জানায় যে, জাজিরা থানার ওসি তাকে ১ লক্ষ টাকার জন্য পাঠিয়েছেন। টাকা না দিলে রিমান্ডে এনে নির্যাতন করা হবে তার ছেলেকে।
পীরের কথা মিথ্যা হতে পারে না ভেবে আনোয়ার হোসেন ১ লক্ষ টাকা দেন রাজ্জাক দালালের কাছে। এরপর মেডিকেল সার্টিফিকেট পরিবর্তন করে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তন করে দেয়ার কথা বলে নেন আরও ১৫ হাজার টাকা।
কিছুদিন পর জামিনে মুক্ত হয়ে শাহ আলম পীর আব্দুর রাজ্জাককে মুঠোফোনে কল করে জানতে চান কোন ওসিকে টাকা দিয়েছেন তিনি। এমন প্রশ্নে কিছুটা অসংলগ্ন উত্তর দেন দালাল রাজ্জাক। ঘটনার পর থানায় গিয়ে পীর রাজ্জাক দালালকে বিবাদী করে লিখিত অভিযোগ করেন শাহ আলম।
এবিষয়ে দালাল রাজ্জাক আজকের সংগ্রামকে জানান, তিনি ওসির কথা বলে টাকা নেননি। তিনি তার খালুজান জাজিরা পৌরসভার সাবেক মেয়র ইউনুস বেপারীকে দিয়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট পরিবর্তন করার জন্য টাকা নিয়েছেন। তিনি সর্বমোট ৬১ হাজার টাকা নিয়েছিলেন, যারমধ্যে ৩০ হাজার টাকা ফিরত দিয়েছেন আনোয়ার হোসেন মাদবরকে। বাকি ৩১ হাজার টাকার মধ্যে ১১ হাজার টাকা তিনি নিজে খরচ করেছেন এবং বাকি ২০ হাজার টাকা সাবেক মেয়র ইউনুস বেপারীকে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। এসময় তিনি স্বীকার করেন যে, তাদের কোনো মুরিদ বিপদে পড়লে তিনি উপকার করেন, এর আগেও এমন উপকার করেছেন।
এবিষয়ে জাজিরা পৌরসভার সাবেক মেয়র ইউনুস বেপারীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাজ্জাক আমার আত্মীয় হয়। সে একদিন এসে আমার কাছে ২০ হাজার টাকা জমা রেখেছে। বললো প্রয়োজন হলে নিয়ে যাবে। কিসের টাকা এবিষয়ে কিছুই জানি না আমি। আমি ওরে এখনই ডেকে টাকা ফিরত দিয়ে দিবো।
মামলার কার্যক্রম ভিন্ন দিকে মোড় দেয়ার জন্য ঘুষের টাকা আদানপ্রদান সম্পর্কে জানার জন্য জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হাফিজুর রহমানকে মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
টাকার বিনিময়ে মামলর কার্যক্রম ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা মহামারীর চেয়েও ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহলের অনেকে। দালালদের দৌরাত্মের কারণে অনেক সময়ই ন্যায় বিচার বঞ্চিত হয় ভুক্তভোগীরা। তাই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়ার দাবি তুলছেন কেউ কেউ।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.