বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকা জেলার অন্তর্গত কেরানীগঞ্জের নেকরোজবাগ, গদাবাগ ও আতাশুরে প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে চলছে অবৈধভাবে কেমিক্যাল ও এসিডের মত বিপদজনক পদার্থের রমরমা ব্যাবসা।
কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের নেকরোজবাগ, গদাবাগ ও আতাশুর এলাকায় রয়েছে অবৈধভাবে প্রায় (৩০) ত্রিশটিরও বেশি কেমিক্যাল ও এসিডের মজুদ করা গোডাউন।
এসব গোডাউনে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড নামক বিপদজনক পদার্থের বড় বড় ড্রাম রয়েছে। রয়েছে ইজিবাইক চালানো ব্যাটারীর এসিড, এসিটিক এসিড, রেনসা নামক দাহ্য পদার্থ। এরা বিভিন্ন জায়গা হতে এসব ক্ষতিকারক দ্রব্য রাতের অন্ধকারে নিয়ে আসে এবং গোডাউনে মজুদ করে।
রাতের আধারে এসব বিপদজনক কেমিক্যাল ও এসিড এক ড্রাম হতে অন্য ড্রামে আলাদা করে বিভিন্ন জায়গায় ভ্যান গাড়ির মাধ্যমে পৌঁছে দেয়।
এদের নাই কোনো লাইসেন্স নাই কোনো সরকারি বৈধ কাগজ পত্রাদি।
জনবসতিপূর্ন এসব এলাকার বাসিন্দারা সবসময় একটা আতংকের মাঝে জীবনযাপন করে আসতেছে। এসব কেমিক্যাল ও এসিডের বিষাক্ত ঝাঁঝ ও দুর্গন্ধের মধ্যদিয়ে চলাচল করে এলাকার বাসিন্দারা, ছোট ছোট স্কুলে পড়ুয়া বাচ্চারা যা তাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।
আতাশুরে এমনই এক কেমিক্যাল গোডাউনের মালিক বাবুল হোসেন, পিতা: ওহাব আলী মোল্লা সাং চকনয়ানপুর, বেড়া, পাবনা।
রাতের আধারে এসব অবৈধ ভেজাল কেমিক্যাল ও এসিড মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর লেভেল ব্যাবহার করে বাজারজাত করে আসছে, অন্যত্র পাঠানোর সময় আমাদের প্রতিনিধির চোখে পড়ে। কেমিক্যাল ও এসিড ভর্তি নীল রংয়ের ড্রামে কি আছে জানতে চাইলে তাহারা বলে এতে কেমিক্যাল আছে। তাদের কাছে এসব পদার্থ রাখা ও ব্যাবসা করার সরকারি কোনো অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে বলে, আপনি আমাদের মালিকের সাথে কথা বলেন। লেবারের কাছে থেকে মালিকের নাম্বার নিয়ে মুঠোফোনে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ মোড়কে এসব কেনো বাজারজাত করছেন, ব্যাপারে বৈধ কাগজ পত্রের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি আপনার বিকাশ নাম্বারে খরচ দিয়ে দিচ্ছি আপনার মুখ বন্ধ রাখেন দ্বিতীয় বার ফোন করলে বলে এসব কথার জবাব আপনাদের কাছে দিতে আমি বাধ্য নই।
তাহারা জনবসতি এলাকায় এসব বিপদজনক কেমিক্যাল ও এসিডের মত ক্ষতিকারক পদার্থ রাখা ও ব্যাবসা কিভাবে করে এটা আমাদের বোধগম্য নয়। তাহলে কি তাদের খুঁটির জোর অনেক বেশি? তাদের মাথার উপরে রয়েছে অনেক বড় হাত?
এ ব্যাপারে এলাকাবাসির সাথে কথা বললে তারা আমাদের প্রতিনিধিকে জানান তারা সবসময়ই একটা ভীতিকর পরিস্হিতির ভিতরে বসবাস করতেছেন এবং আতংকে আছেন কখন ঘটে যায় বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা। যে কোন সময় লাগতে পারে আগুন বিস্ফোরণ হতে পারে এসিড ও কেমিক্যালের ড্রামা।
উল্লেখ্য কিছুদিন আগে এমনই একটি কেমিক্যালের গোডাউনে আগুন লেগে একই পরিবারের ৪জন সহ মোট ৫জন মারা যায় এবং তখন প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সকলেই আশ্বাস দিয়েছিলেন আবাসিক এলাকার ভিতর এসব কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউন যাতে না থাকতে পারে সে বিষয়ে তারা আইনানুগ ব্যাবস্হা গ্রহন করবেন এবং এসব বন্ধ করার জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করবেন। কিন্তু সেই ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত এসব বন্ধের কোন পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয় নাই। তবে কি শর্ষের ভিতরই ভূত রয়েছে।
এলাকাবাসী জানায় তারা শান্তিপূর্ণভাবে বাঁচতে চায়, নিশ্চিতে ঘুমাতে চায়। এবং তারা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছে যেন এসব অবৈধ কেমিক্যাল ও এসিডের গোডাউনগুলো বন্ধ করে এসব অবৈধ কেমিক্যাল ও এসিড রাখার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.