
বিশেষ প্রতিনিধি:
মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া গ্রামে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরী করে এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমি জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ভূমিদস্যু আব্দুল বারেক হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ওই ভূমিদস্যুর হয়রানী থেকে রক্ষা পেতে দীর্ঘদিন ধরে ওই সংখ্যালঘু পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিয়েও ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না। ভূমিদস্যুর কবল থেকে নিজেদের জমি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দেয়া অভিযোগ, শালিস নামা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের খড়মা মৌজায় ডিপি-৩৯৭ ও ৩৯৯ এর সিএস খতিয়ানের ১৯১ , ১৯২ এবং বিআরএস ৬০১ এ ৫ একর ৭৩ শতাংশ ওয়ারিশ সূত্রে মালিক ধীরেন্দ্রনাথ বর। তাদের নিকট থেকে ঐ জমি টাকার বিনিময়ে দলিল বন্ধক রেখে নিয়ে ভোগদখল করে এবং পরবর্তীতে ধীরেন্দ্রনাথ টাকা দিয়ে দলিল ফিরিয়ে নিয়ে আসে। কিন্ত জমিতে মাছ চাষের সুবাদে থাকা বারেক হাওলাদার ঐ জমির একটি জাল দলিল তৈরী করে নকল রেকর্ড ও পর্চা বানিয়ে নেয় এবং সম্প্রতি বারেক তার স্ত্রীর নামে আরো ৪৯ শতাংশ জমির ভূয়া দলিল তৈরী করে সেখানে স্হাপনা তৈরী করতেচে। জমি জালিয়াতির বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর থেকেই ওই সংখ্যালঘু পরিবারের সাথে বারেক হাওলাদারের প্রকাশ্য বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
ভুক্তভোগী জমির মালিক ধীরেন্দ্রনাথ বর বলেন, বারেক হাওলাদার ঐ জমিতে তাদের না যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। হুমকি-ধামকির পর থেকে ধীরেন্দ্রনাথ বর ন্যায় বিচার পেতে এবং তাদের নিজেদের মালিকানা জমি দখল নিতে আবেদন বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি সহ অনেকের শরণাপন্ন হন কিন্তু অদ্যাবধি তিনি কোন সমাধান পান নাই।
এ বিষয়ে এসি ল্যান্ড বরাবর অভিযোগ দিলে তিনি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান উক্ত অভিযোগের তদন্তের জন্য বারেক হাওলাদারকে পর পর ৩ বার নোটিশ করা সত্ত্বেও তিনি তার জমির মালিকানার পক্ষে কোন দলিলপত্র নিয়ে হাজির হয় নাই এবং এমতাবস্থায় তিনি যেসকল তথ্য উপাত্ত পেয়েছেন তার উপর ভিত্তি করে আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন দাখিল করে দিবেন।
এ সব বিষয়ে অভিযুক্ত বারেক হাওলাদার বলেন, বিশ বছর ধরে ওই জমি আমার দখলে রয়েছে। বিআরএসে আমার নাম এসেছে। তাকে জমির কাগজপত্র দেখাতে বললে তিনি গড়িমসি করেন ও তালবাহানা করে সময় নষ্ট করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন এ জমির বিষয়ে একটি মামলা চলমান রয়েছে তাই তিনি এ বিষয়ে কোনরকম মন্তব্য করতে পারেন না তবে তিনি বলেন প্রকৃত জমির মালিক যিনি তিনিই জমি পাবেন এবং ন্যায্য বিচারও পাবেন।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.