
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
শরীয়তপুরের জাজিরার মনটু বেপারী হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিনটি বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়েছে। লুটপাটের একপর্যায়ে দু'টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে নিহত মনটু বেপারীর সমর্থকেরা। শুক্রবার (১-মার্চ) মধ্যরাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত চলে এ লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় জাহাঙ্গীর মুন্সি, আব্দুল করিম মাস্টার ও তার ভাইয়ের ঘরে চালানো হয় এ লুটপাট। এরমধ্যে করিম মাস্টার ও তার ভাইয়ের ঘরে দেয়া হয় আগুন। আগুনে ঘরের মধ্যে থাকা বিছানাপত্র সহ ঘরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। অগ্নিসংযোগের সময় বাড়িতে ছিলেন না করিম মাস্টারের বাড়ির কেউ। এছাড়া প্রতিটি ঘরের মধ্যে থাকা বিভিন্ন আসবাপত্র ভাঙচুর করে লুট করতে আসা লোকজন।
এদিকে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর মুন্সির স্ত্রী রাবেয়া আক্তার জানান, শুক্রবার রাতে নিহত মনটুর ভাগিনা ফারুক সরদারের নেতৃত্ব প্রায় শতাধিক লোক তাদের ঘরে হানা দেয়। এসময় ঘরের মধ্যেই ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। বাহির থেকে লোকের চিৎকার চেচামেচি ও গালিগালাজ শুনে তিনি ভিতর থেকে বলেন, 'আমি দরজা খুলে দিচ্ছি, আপনারা যা নিতে মন চায় নেন। কিন্তু আমার গায়ে হাত তুইলেন না।'
এসময় ফারুকসহ কয়েকজন ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পিছন থেকে রাবেয়ার হাত বেঁধে গলায় রামদা ধরে ঘরের মধ্যে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। পরে রাবেয়ার কানে থাকা কানের রিং (দুল) গলায় দু'আনি ওজনের চেইন, হাতের চুড়ি নাকের নাকফুল খুলে নেয় লুটেরা। তবে রাবেয়ার দাবি তার হাতের চুড়ি স্বর্ণের ছিলো না। বাজার থেকে কিনে এনেছিলেন ওই চুড়ি। এছাড়া তার স্বর্ণের তেমন কোনো অলংকার বা ঘরের মধ্যে বেশি টাকাপয়সাও ছিলো না।
ভুক্তভোগী আব্দুল করিম মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, আমি এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানিনা। আমি এখনো ঠিকমতো দাড়াতে পর্যন্ত পারি না। নিহত মনটুর বিরুদ্ধে আমার মামলা চলমান রয়েছে। অথচ আমাদের বাড়িতে ব্যাপক লুটপাট করে আবার আগুন জ্বালিয়ে ঘর পুড়িয়ে দেয়ারও চেষ্টা করেছে তারা। এসময় তিনি তার ঘরবাড়ির নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
এদিকে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুক সরদারকে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে ঘটনার দিন রাতে টহল টহলটীমে থাকা জাজিরা থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ ঘটনাস্থলসহ আশপাশে সারারাত পাহারা দিয়েছি। যেখানেই কেউ সমস্যা করার চেষ্টা করেছে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছি। একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করলে আমরা গিয়ে আগুন নিভিয়ে দেই। তবে জাহাঙ্গীর মুন্সির বাড়িতে কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা আমরা জানিনা।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনা তেমন কিছুই না। সাধারণত হত্যাকাণ্ডের পরে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হয়ে থাকে। তবে আমাদের টহল জোরদার থাকায় তেমন কিছুই ঘটেনি। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.