নিজস্ব প্রতিবেদক ।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা ১১ নং মূলঘর ইউপি ৪ নং ওয়ার্ড পার সাদিপুর গ্রামের লুৎফর রহমান ৪০ ।
বসন্তপুর ইউপি কোলা সদর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এর পিছনে ফখরুদ্দিন ফকিরের বাড়ি।
২০শে মে ২০২৪ লুৎফর রহমান ,সকাল ৭টার সময় ফখরুদ্দিন ফকিরের তিলের জমিনে তিল কাটার কাজ করতে যায়। ২০মে ২০২৪ সকাল ১০টার সময় শ্রমিক লুৎফরের জন্য জমির মালিক ফখরুদ্দিন খাবার নিয়ে যান , খাবার খাইয়ে জমির মালিক ফখরুদ্দিন ফকির বাড়িতে চলে যায় ।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায় , রাজবাড়ী জেলা সদরের মূলঘর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড পারসাদীপুরের লুৎফর রহমানে স্ত্রী শারমিন জানান আমার স্বামী লুৎফর রহমান ২০শে মে ২০২৪ সকাল ৭ টায় কাজের উদ্দেশ্যে বের হয় , তবে কোথায় কার বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছে সেটা আমাকে জানায়নি ।
সন্ধ্যা হয়ে যায় স্বামী বাড়িতে ফেরত না আসায় আমি চিন্তিত হয়ে পড়ি , যখন রাত ৮টা বাজে স্বামীকে না দেখে আমার মামাতো দেওর নুরুল ইসলাম ও আমার ছোট দেওর লাভলু বিশ্বাস কে দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করা হয় ।
খোঁজাখুঁজির শেষে আমার স্বামীর সন্ধান না পেয়ে ২১শে মে ২০২৪ রোজ মঙ্গলবার সকালে মাইকিং করে খোঁজাখুঁজি করা হয় ।
কার বাড়িতে কাজে গিয়েছে সেটাও জানি না , মাইকিং এর পরে জানতে পারাযায়, কোলা সদর উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে ফখরুদ্দিন ফকিরের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছে , তখন আমরা সকলেই ফখরুদ্দিন ফকিরের বাড়িতে খোঁজ করতে গেলে , ফখরুদ্দিন ও ফখরুদ্দিনের ছোট ছেলে তাদের তিলের জমিনে খোঁজ করতে যায় , সেখানে দেখেন লুৎফরের দেহ উপর হয়ে পড়ে আছে । পরে জানা গিয়েছে মুঠোফোনের মাধ্যমে ফখরুদ্দিন ফকিরের সঙ্গে তার তিলের জমিনে তিল কাটার চুক্তি করেছিলেন ৬০০ টাকায়।
জমির মালিক ফখরুদ্দিন ফকিরের নিকট জানতে চাইলে, ফকির বলেন আমার তিলের জমিনে তিল কাটার চুক্তি দিয়েছিলাম ৬০০ টাকায় , সকালে আমি তার খাবার নিয়ে দিয়ে আসছিলাম,, তারপরে কি হয়েছে আমি জানিনা , ফখরুদ্দিনের নিকট এই প্রতিবেদক জানতে চায়,আপনার জমিনে একজন লেবার কাজ করলে দিনশেষে খোঁজ নেয়ার দায়িত্ব আপনার কতটুকো রয়েছে, উত্তরে ফখরুদ্দিন বলেন , খোঁজ নেওয়ার কোন প্রয়োজন মনে করি না , দায় সারা কথা বলে ফখরুদ্দিন নামাজে চলে যান , স্থানীয় প্রত্যক্ষ দোষীরা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন পুলিশ এসে লাশ উদ্ধারের পরে , আমরা দেখি লাশের মুখ ও শরীরের কিছু অংশ কালো হয়ে গিয়েছে । ক্যামেরার সামনে কথা না বলে জানান সরিসার মধ্যেই ভূত রয়েছে কিনা খুঁজে দেখার প্রয়োজন ।
লুৎফরের মামাতো ভাই নুরুল ইসলাম বলেন লুৎফরের স্ত্রী আমার ভাবি ২০ শে মে রাত ৮টার সময় বিষয়টি আমাকে জানালে আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করি , ভাইয়ের কোন সন্ধান না পেয়ে তারপরের দিন ২১শে মে মাইকিং করা হয় , তবে দুঃখের বিষয় আমাদের মাইকিং নাকি জমির মালিক ফখরুদ্দিন শোনেন নাই । ২১শে মে ফখরুদ্দিনের বাড়িতে খোঁজ করতে গেলে ভাইয়ের সন্ধান মিলে মাঠের মধ্যে ভাইয়ের লাশ উপর হয়ে পড়ে আছে , পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করলে দেখা যায় তার মুখ ও শরীরের কিছু অংশে কালো হয়ে গেছে ।
লুৎফরের ছোট ভাই লাভলু বিশ্বাস বলেন আমার ভাই নম্র ভদ্র সাদামাটা একজন মানুষ ছিলেন পোস্ট মর্টেম হয়েছে সঠিক তথ্য বের হয়ে আসবে ।
ফখরুদ্দিনের বেয়াই বলেন ওই মাঠে আমিও ঘাস কাটতে গিয়েছিলাম আমার ঘাস কাটা শেষ হলে লুতফরের দিয়ে আমার বুঝা ওঠাইয়া নিই , তখন কোন বৃষ্টির আবহাওয়া ছিল না, তবে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধারের পরে লুৎফরের মুখ প্রচন্ড কালো ছিল আমিও দেখতে পেয়েছি ।
লুৎফরের স্ত্রী শারমিন বলেন আমার দুইটি বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে ১৭ বছর পর আমি এখন সাত মাসের গর্ভবতী আমার সন্তান পৃথিবীর আলোর মুখ দেখার আগেই তার বাবাকে হারালেন ।
রাজবাড়ী সদর থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি ইফতেখারুল আলম প্রধান বলেন বিষয়টি তদন্ত চলছে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.