
বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের গদাবাগ এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করায় বাধা দিতে গেলে হেনস্তা করা ও হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা।
সোমবার (১ জুলাই) মডেল থানার গদারবাগ এলাকায় বিকেল সাড়ে ৫টায় এক সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান কালিন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের ১ম যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মালেক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গদারবাগ মৌজায় বালুর মাঠ এলাকায় আমাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক একটি রাস্তা নির্মাণ করেন কালিন্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলী হোসেন মেম্বার ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাইনু মেম্বার।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলী হোসেন মেম্বার ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনু মেম্বারসহ কয়েক ব্যক্তি ওই এলাকার ভুক্তভোগী জমির মালিকদের জমির সঠিক মূল্য না দিয়ে আশপাশের প্লট মালিকদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে টাকা নিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণ করে। এ সময় আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, মাইনু মেম্বার ও আলী মেম্বারের কাছে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন স্থানীয় কালিন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক তাদের রাস্তা নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাস্তা নির্মাণের কোনো অনুমতি দেননি বলে জানান।
আব্দুল মালেক আরো জানান নিজস্ব জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণে বাধা দিতে গেলে এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কামরুল ইসলাম কামু ও আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ায়। এ ছাড়া তার ও আমার নাম জড়িয়ে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে মানহানি করে। আমরা ভুক্তভোগী পরিবার এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে যারা এই ঘৃণ্য অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্হিত কালিন্দী ইউনিয়ন পরিষদের ৬,৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মাকসুদা বলেন তাকে না জানিয়ে হটকারীতার আশ্রয় নিয়ে তার কাছ থেকে রাস্তার অনুমোদনের বিষয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেয় মাইনু ও আলী মেম্বার। কিন্তু পরবর্তিতে তিনি যখন জানতে পারেন যে এই রাস্তা সরকারি বা খাস জায়গা না ব্যাক্তি মালিকানাধীন তখন তিনি জমির মালিকদের অনুমতি নিয়ে বিশেষ করে কামরুল ইসলাম কামুর অনুমতি নিয়ে রাস্তার কাজ করতে বলেন। তিনি আরো বলেন তিনি একজন দায়িত্বশীল ব্যাক্তি হয়েও না জেনে না পড়ে কোন একটা কাগজে স্বাক্ষর করা তার ভুল হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ফজলুল হকের মুঠো ফোনে কল করে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বালুর মাঠের ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরির অনুমোদন আমি দিয়েছি। তবে কারো ব্যক্তিগত জমি পড়লে তাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আমি জানতে পেরেছি এখানে স্থানীয় অনেক লোকের জমি আছে যাদের কাছ থেকে অনুমতি না নিয়েই রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। তাই আপাতত রাস্তা তৈরি বন্ধ আছে। বিষয়টি নিয়ে আমার উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ফয়সালা করে দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে এলাকার বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় কামরুল ইসলাম কামু পবিত্র হজ্জ্বব্রত পালনের উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্হানরত থাকা অবস্হায় গত ১৫ জুন কাউকে না জানিয়েই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভেকু লাগিয়ে মাটি কেটে রাস্তার নির্মান কাজ শেষ করেন যা সম্পূর্ণ অবৈধ কাজ। তারা আরো জানান যারা এই রাস্তা নির্মাণ করেছেন তাদের উচিৎ ছিলো কামরুল ইসলাম কামু'র সাথে আলাপ আলোচনা করে সকল জমি মালিকদের অনুমতি নিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্হিত ছিলেন মোঃ আজিম, সহ সভাপতি ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ, কালিন্দী ইউনিয়ন, হাজী মোজাম্মেল, হাজী মোস্তফা, ফারুক, বাবন, পারুল সহ আরো অনেকে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.