বিশেষ প্রতিনিধি:
প্রতিদিনই সারাদেশে বিভিন্ন অপরাধ বাড়ছে এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের নামে হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠা বিভিন্ন মামলার এজাহারভুক্ত ফ্যাসিবাদের দোসররা বুক ফুলিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। তবে এতো পুলিশ থাকার পরও আইন শৃঙ্খলা পরিস্হিতির কেন এতো অবনতি হচ্ছে এবং খুনি ফ্যাসিস্টরা এখনো কিভাবে ঘুড়ে বেড়াইতেছে সেটি নিয়ে সাধারন মানুষের ক্ষোভ আর প্রশ্নের শেষ নাই।
বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন পেশাদার পুলিশিং হচ্ছে না বলেই এমনটি হচ্ছে। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীতে ঘাপটি মেরে থাকা গণ অভ্যুত্থান বিরোধী পুলিশ সদস্যদের গাফিলতির কারনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্হিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না এবং ফ্যাসিজমের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্হা নেওয়া যাচ্ছে না। তাদের মতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের ১৫ বছরে এই বাহিনীতে নিয়োগের সময় একেবারে বেছে বেছে আওয়ামীপন্থীদের চাকরী দেওয়া হয়েছে। এ কারনে ২৪ এর গণ অভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার ওপর সে সব দলীয় পুলিশ সদস্যদের ভয়ংকর রূপ দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করছে। এ কারনে পুলিশ বাহিনীর মহাপরিদর্শক ( আইজিপি) সহ পুলিশের একটি অংশ শত চেষ্টা করেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারতেছে না এবং মামলার এজাহারভুক্ত ফ্যাসিস্টদের সহযোগীদের গ্রেপ্তারও করা যাচ্ছে না। মূলত তৃতীয় পক্ষের ষড়যন্ত্রের কারনে পুলিশের অনেক সদস্য কৌশলে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কেউ অফিসিয়ালি বিষয়টি স্বীকার না করলেও এটাই বাস্তবতা। এমন পরিস্হিতির নেপথ্য কারন পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা। ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়াদের একটি বড় অংশ এখনো পুলিশ বাহিনীতে রয়েছে। এছাড়া ঐ সময়ের সুবিধাভোগীদের একটি অংশ এখনো ছদ্মবেশে এখনো সক্রিয়।
তেমনি এক পুলিশ সদস্য পুলিশ পরিদর্শক সুজন হক, যিনি বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ( ডিএমপি) ' র ভাটারা থানার ওসি ( তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেছেন। যিনি ফ্যাসিস্ট আমলে শরিয়তপুর জেলার জাজিরা থানায় ওসি ( তদন্ত) হিসেবে চাকরি করেছেন এবং এই চাকরিকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরী হয় এবং এখনো তিনি সেই সম্পর্ক রক্ষা করে তার প্রতিদান দিতেছেন। তাই তিনি তার থানায় ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামীদের অবস্হান জানা সত্ত্বেও গ্রেপ্তার করতে গড়িমসি করতেছেন। সম্প্রতি ভাটার থানায় জনৈক নয়ন মিয়া জাবেদ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ফ্যাসিস্টদের দ্বারা নিহত মোঃ ইমন হত্যার বিচার চেয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সহ ১১৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নাম্বার - ৩৩। এই মামলায় শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার ৫ জন এজাহারভুক্ত আসামী রয়েছে, যাদেরকে গ্রেপ্তার করার জন্য বাদীপক্ষের লোকজন বারবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আসামিদের অবস্হান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও তিনি ওসি ( তদন্ত) সুজন হকের দোহাই দিয়ে আসামি গ্রেপ্তার না করে কালক্ষেপণ করতেছেন। এতে করে বাদীপক্ষের লোকজন তথা এলাকার ফ্যাসিস্ট বিরোধী সাধারন মানুষের ধারনা পুলিশ পরিদর্শক সুজন হক যেহেতু আসামীদের সাথে পূর্ব থেকেই পরিচিত তাই হয়তো তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি না করে বাহিরের মুক্ত বাতাসে ঘুড়ে বেড়ানোর সুযোগ করে দিতেছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাসানের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি জানান গতকালকেও এই মামলার এজাহারভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান আছে। তার কাছে শরিয়তপুরের আসামিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ওসি ( তদন্ত) এর সাথে দেখা করে কথা বলতে বলেন।
এ বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি ( তদন্ত) পুলিশ পরিদর্শক সুজন হকের ব্যাবহৃত সরকারি নাম্বারে কল দিলে তিনি বলেন মামলার বাদী তাদের সাথে যোগাযোগ করে না এবং বাদীকে তারা পায় না এবং এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন এরপরে যদি কিছু বলার থাকে তাহলে যেনো বাদীকে নিয়ে প্রতিবেদক থানায় আসে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.