মো: আরাফাত হোসেন
জুলাই গন অভ্যূথানে নারকীয় ঘটনায় গণপূর্তের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সহ ৯৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আক্তার সহ প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী এই হত্যা মামলার সাথে জড়িয়ে আছেন।
আসামিরা হলেন ১.মো: শামীম আক্তার প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত অধিদফতর ২.আগস্টিন পিউরিফিকেশন, চেয়ারম্যান (ক্লাল্ব) ৩.মো:জালাল আহমেদ আওয়ামীলীগ নেতা ফরিদগঞ্জ ৪.মো:সাইফুজ্জামান চুন্নু (ফরিদপুর গণপূর্ত) ৫.শাহিন আলম সাব রেজিস্ট্রার তেজগাঁও ৬.মো:শাহাবুদ্দিন আহমেদ (ঝার)৭.মাইমুরা ইকরা ফরিদগঞ্জ আওয়ামীলীগ নেত্রী ৮.মো:কামাল নায়েব ৯.মো:হাসিবুল আলম তালুকদার ১০.এস এম ফিরোজ আলম ১১.মো:রিপন মুন্সি ১২.নাসিম খান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত ১৩.মো: উজ্জ্বল মিয়া ১৪.শাহেদ মিয়া বাবুল (ল্যাব এইড বাবুল)১৫.মোখলেছ ঠাকুর ১৬.মো:আনসার বেপারী আওয়ামীলীগের অর্থ যোগান দাতা ১৭.কাজী তারেক সামশ আওয়ামী লীগের অর্থ দাতা ১৮.মো: বাবু শেখ ১৯.শংকর চন্দ্র হাওলাদার ২০. হিরোন চন্দ্র হাওলাদার ২১.ঝন্টু চন্দ্র হাওলাদার ২২.আবুল কাশেম ২৩.মো:আতিকুল ইসলাম নির্বাহী প্রকৌশলী গণপূর্ত ২৪.প্রশান্ত দত্ত ইমারত পরিদর্শক ৪/১ মহাখালী রাজউক ২৫.পাট্রিক পালমা জিএম ক্লাব ২৬.মো:আমানুল্লাহ গণপূর্ত ২৭. তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগের অর্থ দাতা ২৮.কাজী মো:ওয়াহিদুল ইসলাম আওয়ামী লীগের অর্থ দাতা চেয়ারম্যান রুপালী ব্যাংক ২৯. এনামুল হক বড়বাবু (১২তলা) ৩০.মো:তরিকুল ইসলাম ৩১.মাহফুজ আলম স্টাফ অফিসার গণপূর্ত ৩২. আবু সুফিয়ান মাহাবুব নির্বাহী প্রকৌশলী গোপালগঞ্জ গণপূর্ত ৩৩.মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত ৩৪ মো: নেছার আহমেদ(বাবুল) স্পা বাবুল ৩৫.মো: আবুল হাসেম আওয়ামী লীগের অর্থ দাতা ৩৬. মো: বাহার (স্পা বাহার) ৩৭.তুষার মোহন সাধু খা জনসাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ৩৮.জোটন দেবনাথ গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। মামলার পর থেকে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী এসকল প্রকৌশলী গন আছে গ্রেফতার আতংকে। এদের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা নং সি আর ৬৩/২৫ থানার এফ আই আর মামলা নং ০৬ তারিখ ০৩ মার্চ।অন্যদিকে দুর্নীতির দায়ে যে কাউকে বিচারের আওতায় মুখোমুখি করা হতে পারে বলে জানা গেছে। যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রকৌশলী অফিসে অনিয়মিত। এতে করে অধিদপ্তরে জুড়ে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।এর ই মধ্যে ঢাকার বাহিরে বেশ কিছু প্রকৌশলীকে বদলি করা হলেও কোনো কাজে আসেনি।এবং কাজে ফিরেনি গতি।স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতি করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে এসব প্রকৌশলীরা।জুলাই গণহত্যা মামলায় এসব প্রকৌশলীরা স্বৈরাচার আওয়ামীলীগের নেতাদের অর্থ যোগান দিয়েছে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।অনেক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জমা আছে, যা কমিশনের তদন্তে আছে বলে জানা যায়। এছাড়াও আওয়ামীলীগ সরকারের সময় দুর্নীতিতে সামনের সারিতে থাকা এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা সকলকেই পুরস্কৃত করা হয়। ড.মুহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বতী সরকার ক্ষমতায় বসার পর আন্দোলন ভন্ডুল করার চেষ্টাকারিদের দোসর হিসেবে পরিচিত এসব প্রকৌশলীকে বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসব প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন, রামপুরা ও সাভার থানায় মামলা হয়েছে। মামলা হয়েছে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট আদালতেও।এদের মধ্যে অনেক প্রকৌশলী ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সক্রিয় ও পদাধিকর সদস্য। আসামীর তালিকায় থাকা কয়েকজন প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এসব মামলার সঙ্গে জড়িত কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। তাদের মূল উদ্দেশ্য মামলার আসামীদের বিভিন্ন চাপে রেখে ঠিকাদারি কাজ ও অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এ মামলায় গ্রেফতারের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। টাকা দিলেই মামলা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। তারা জানান এটা সত্যি যে বিগত সরকারের সময় কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সহ দলীয় করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যারা বিগত সরকারের সময় সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে তাদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। তা না করে ঢালাওভাবে মামলা দেওয়া হয়েছে। চাকরি হারানো এবং মামলায় গ্রেফতারের ভয় থাকবেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকৌশলী গণমাধ্যমে জানান এখানে যাদের হাতে ক্ষমতা তাদের ইচ্ছায় সব হয়।ছাত্র জনতা হত্যার পাশাপাশি অনেকে দুর্নীতির সাথে জড়িত।তারা এখন প্রকৌশলী হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। এর আগে গণপূর্তের এসব প্রকৌশলী জি কে শামীমের সঙ্গে সখ্য গড়ে ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।কয়েকদিন আশরাফুল আলম গণপূর্ত অধিদপ্তরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) হয়ে এসেছেন। এর আগেও তিনি গণপূর্তে ছিলেন। তখন তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো।কিছু দিনের মধ্যে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেবে এমন গুন্জন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা আন্দোলন দমনে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো মামলা হয়নি।গণপূর্তের সবাই তাকে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে চেনেন। অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের মোবাইলে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী শামীম আক্তারের সঙ্গে মামলার বিষয় কথা বলতে গেলে কোনো মন্তব্য করেনি।গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব হামিদুর রহমান খান গণমাধ্যমকে বলেন যারা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা তাদের তালিকা হচ্ছ।কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এখন পর্যন্ত আদালত থেকে কোনো চিঠি আসেনি, আসলেই ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা দুর্নীতি করেছেন এবং জড়িত আছেন দ্রুত তদন্ত করে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। সূত্রে জানা যায় প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের একান্ত আস্থাভাজন সাইফুজ্জামান চুন্নু সকল অপকর্মের মূল হোতা।চুন্নু প্রধান প্রকৌশলীর আস্থাভাজন হওয়ার জন্য সকল অপকর্ম নিজ হাতে সমাধান করে থাকেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আমানুল্লাহ সকল অপকর্মের রোডম্যাপ করে দিতেন। আমানুল্লাহ প্রধান প্রকৌশলীর টাকা পয়সা হেফাজত করে থাকেন। মামলার অভিযোগকারী আজিজুল হক তার মুঠো ফোনে জানান দেশ রক্ষা করতে ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি।আসামিরা এতো হিংস্র যে পুলিশের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গুলি করে আমার চোখ দুটো ছিনিয়ে নেয়।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.