মো.আরফান আলী,ঠাকূরগাঁও:
ঠাকূরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ৬ নং পীরগঞ্জ ইউনিয়নের বেগুনগাঁও পয়ন্ধা বিশ মাইল এলাকার বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত ফি আদাইসহ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি আদায় করার অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে এক প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবীতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমের অপসারণ দাবীতে বিদ্যালয় চত্ত্বরে অবস্থান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন সংক্ষুদ্ধরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়ে পরিবেশ শান্ত করেন।
জানা গেছে, গত বুধবার থেকে বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমের নির্দেশে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন চার্জ ও বেতন সহ জন প্রতি ৮শ টাকা করে ফি আদায় করা হচ্ছে। ওই বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ৮শ টাকা ফি দিতে না পারায় তাদেরকে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাঁধা দেন এবং টিসি নিয়ে অন্য স্কুলে চলে যেতে বলেন প্রধান শিক্ষক। পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমন আচরণে ভেঙ্গে পড়েন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে অভিভাবকরা বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয় চত্ত্বরে জড় হতে শুরু করেন। অভিভাবকরা পরীক্ষার ফি কমিয়ে তাদের সন্তানদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানালে প্রধান শিক্ষক তার অবস্থানে অনড় থাকেন। প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের অনুরোধ উপেক্ষা করায় স্কুল চত্ত্বরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক আলমের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। দুপূর পর্যন্ত বিদ্যালয় চত্ত্বরে তার অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সহ এলাকাবাসী। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসান ঘটনাস্থলে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে সকল ছাত্রীরা একযোগে টিসি চান। এতে রাজি হননি প্রধান শিক্ষক আলম। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা বলেন এবং প্রোয়জনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিবেশ কিছুটা শান্ত হয়। ইউএনও সেখান থেকে দুপূরে ফিরে আসার পর আবারো বিক্ষোভ শুরু হয়। চলে বিকাল পর্যন্ত। পরে বিক্ষোভকারীরা যার যার মত করে বাড়ি চলে যায়।
বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার বলেন, প্রতিবার পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি নেওয়ার কথা বলে সবার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে থাকে প্রধান শিক্ষক। কেউ টাকা দিতে না পারলে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয় না। আমরা হেড স্যারের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।
বিপিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী মৌরা আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। আমরা স্কুলে যাই। কিন্তু পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় আলম স্যার আমাদেরকে পরীক্ষা দিতে দেয় নি। উল্টো আমাদেরকে টিসি (ট্রান্সফার) নিয়ে অন্যত্র চলে যেতেন বলেন এবং আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।
অভিভাবক মসলিম উদ্দিন জানান, প্রধান শিক্ষক আলম স্কুলটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তিনি আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খেয়াল খুশি মত বিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন। নিয়োগ বাণিজ্য সহ অনিয়ম ও দূর্ণীতি তার হাতের মোয়া হয়ে গেছে। দিন দিন তার অনৈতিক দাবী বেড়েই চলছে। আলম প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন। আমরা তার অপসারণ চাই। তাকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে।
এলাকার সচেতন নাগরিক আব্দুর রশিদ জানান, আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও নিয়োগ বাণিজ্য সহ অনেক অভিযোগ রয়েছে। সব শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হয়নি। এত অভিযোগের পরেও তিনি বহাল তবিয়তে কিভাবে আছেন ? কর্তৃপক্ষের উচিত এই দূর্নীতিবাজ শিক্ষককে অপসারণ করে একজন ভালো শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলম বলেন সরকারি নীতিমালা মেনেই তিনি পরীক্ষার ফ্রি সহ অন্যান্য ফি নির্ধারণ করেছেন। অতিরিক্ত কোন টাকা নেয়া হচ্ছে না এবং তার বিরুদ্ধে আনা অন্যান্য অভিযোগ সত্য নয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসান জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য সংক্ষুদ্ধদের বলেছি। অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.