মো: আরাফাত হোসেন:
১৯৯৪ সাল বাড়ির পাশে একটি গাছ ছিল। যেটি প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেয়।চাকুরির সুবাদে খাগড়াছড়ি থেকে তিনি গাছের চারাটি সংগ্রহ করেন এবং তিন বছরের ব্যাবধানে গাছে ফুল আসে।ফুলের রং পিংক কালার হওয়াতে দূর থেকে দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হয়।সারাদিন রোদ থাকে এমন জায়গায় এই গাছটি লাগালে ভালো ফুল পাওয়া যায়। এই গাছ দ্রুত বর্ধনশীল এবং মাঝারি আকৃতির হয়ে থাকে।ক্যাশিয়া জাভানিকার এই গাছটিতে গ্রীষ্ম কালে ফুল ফোটে।বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া সহ উষ্ণ বায়ুমণ্ডলীয় এলাকায় এ ফুলের গাছ পাওয়া যায়।
পাহাড় মানেই যেনো প্রকৌশলী সবুজ চাকমার হাতে বদলে যাওয়া ফুলের বাগান আর বৃক্ষরাশি।তার বাড়ি অফিসের প্রাঙ্গণ মানেই ফুল বাগানের এক চোখ ধাঁধানো নয়নাভিরাম স্থান। বৃক্ষের সাথে যার সক্ষতা, প্রকৌশলী সবুজ চাকমা খাগড়াছড়িতে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী থাকার সময় খাগড়াছড়ি শহরের রাজ্যমানি এলাকায় ২০১৯ সালে নিজ বাড়ির পাশে ০.৫০ একর জমিতে গড়ে তুলেন ' ওয়াইল্ড গার্ডেন নার্সারি' বাগানটি দেখাশুনা করেন স্ত্রী পান্না চাকমা।বাগানটিতে শোভা পায় চন্দ্রপ্রভা,ডোম্বিয়া,ফুরুশ, রক্তকাঞ্চন,নীলপারুল সহ অন্তত ৪০ প্রজাতির দেশি- বিদেশি ফুলের গাছ। এবং বনায়নের জন্য বিনামূল্যে নার্সারি থেকে চারা বিতরণ করেন।
জাতীয় পর্যায়ে শুদ্ধাচারের কৌশল পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত শুদ্ধাচার প্রদান নীতিমালা- ২০১৭ এর আলোকে শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হন প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। ২০২২ সালের ২০ জুন এ পুরস্কার পান তিনি।সরকারি চাকুরীজীবি হলেও মানবতা ও সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিতি পান এলাকায়।
প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান রাখার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগ থেকে ৬ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড পান তিনি।বন ও প্রকৃতি বিষয়ক সংগঠন "প্ল্যান্টেশন ফর নেচার" এর প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী সবুজ চাকমা রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কৃতি সন্তান তিনি।যিনি শুধুমাত্র পদক পাওয়ার জন্য কাজ না করে,কিভাবে প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র্যের সংরক্ষণ করা যায় সই দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। ৩২তম বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তা প্রকৃতি সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য অর্ধ যুগের বেশি সময় ধরে প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর ছবি তুলে চলেছেন।এসব ছবি নিয়ে বন্যপ্রাণী ও পাখি রক্ষার জন্য তিনটি আলোকেচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান প্ল্যান্টেশন ফর নেচার এর মাধ্যমে তিনি এ পর্যন্ত ৮৭৫৬০ টি পাখি বান্ধব গাছর চারা বিনামূল্যে বিতরণ করেন।
এছাড়াও সরকারি অর্থায়নে রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের আওতায়ধীন ১০ হাজার পরিবেশ বান্ধব গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।রাঙ্গামাটি জেলার 'সওজ লেইক ভিউ গার্ডেন' নামক পরিবেশ বান্ধব ও পর্যটন বান্ধব উদ্যান এর প্রধান পরিকল্পনাকারী।
রাঙ্গামাটিতে কমিউনিটি-ভিত্তিক পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করার জন্য ব্রাক ব্যাংক ও তরুপল্লব নিবেদিত 'দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক পান প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। ৩০ আগষ্ট ২০২৫ ইং বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা পান।
পরিবেশ শিক্ষা, সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা এক অনবদ্য নাম প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। পারিবারিক জীবনে স্ত্রী পান্না চাকমা তাকে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এবং গড়ে তোলা নার্সারি গুলো দেখাশুনা করেন স্ত্রী পান্না চাকমা। প্রকৌশলী সবুজ চাকমা এক কন্যা সন্তানের জনক তিনি।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.