বিশেষ প্রতিনিধি:
নীলফামারী–৩ (জলঢাকা) আসনের রাজনীতিতে এক পরিচিত ও পরীক্ষিত নাম আলহাজ্ব সৈয়দ আলী। উন্নয়ন, সেবা ও আদর্শের প্রতীক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন।
রাজনীতির অঙ্গনে তিনি বিশ্বাস করেন—রাজনীতি মানে শুধু দলীয় প্রতীক নয়, বরং জনগণের বিশ্বাসের প্রতিদান দেওয়া এবং উন্নয়নের ধারাকে অটুট রাখা।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাফল্যের ইতিহাস
১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন জামায়াতের প্রতিনিধি। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনে চারদলীয় জোট ভরাডুবির শিকার হয়।
২০০৯ সালে দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে সৈয়দ আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তার প্রচারণায় কোথাও দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বা “জামায়াত সমর্থিত” লেখা ছিল না। নির্বাচনী সমন্বয়কারী ছিলেন তার ছেলে শরিফুল ইসলাম বাবু।
দীর্ঘদিনের জনসেবামূলক কাজ
জনসেবাকে রাজনীতির মূল লক্ষ্য মনে করেন সৈয়দ আলী। জনগণের কল্যাণে তিনি শিক্ষা, ধর্ম, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
শিক্ষা খাতে অবদান
বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সহযোগিতা।
অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ বহন, বই-পোশাক সরবরাহ ও ফি প্রদান।
নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভূমিকা রেখে গ্রামীণ শিক্ষায় গতি আনেন।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন
অসংখ্য মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণে দান–অনুদান প্রদান।
নিজ অর্থায়নে কওমি ও মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা।
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রচারে নিয়মিত সহায়তা।
অবকাঠামো ও যোগাযোগ
গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ–কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে উন্নয়ন সাধন।
হাট–বাজার সংস্কার ও বিদ্যুতায়নে সহায়তা।
নিরাপদ পানির ব্যবস্থায় কার্যকর পদক্ষেপ।
স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা
ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সরঞ্জাম সরবরাহ ও আর্থিক সহায়তা।
অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসার খরচ বহন।
শীতার্তদের মাঝে কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণ।
সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থান
বিভিন্ন এলাকায় মন্দির নির্মাণ ও সংস্কারে নিজস্ব অর্থায়নে সহায়তা।
হিন্দু ও হরিজন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও পূজামণ্ডপে নিয়মিত অনুদান।
পাশাপাশি মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও নিয়মিত আর্থিক সহায়তা।
অপপ্রচার ও প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে—যেখানে ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁস করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, “যিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়াই সেবা দিয়েছেন, তাকে এখন হেয় করা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।”
সৈয়দ আলীর ঘনিষ্ঠ মহল জানায়, তার জনপ্রিয়তা ও উন্নয়নমূলক কাজের কারণে প্রতিপক্ষ মহল ভয় পাচ্ছে, তাই চরিত্রহননের রাজনীতি শুরু হয়েছে।
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভিশন
সৈয়দ আলী বিশ্বাস করেন—আগামী উন্নয়ন হতে হবে আধুনিকতা, ন্যায় ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে।
তিনি নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, নারী উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান।
তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:
শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ।
আধুনিক হাসপাতাল ও নারী-শিশু স্বাস্থ্য প্রকল্প।
ইসলামি ব্যাংকিং নীতিতে ক্ষুদ্রঋণ ও কৃষিঋণ প্রকল্প।
নারীর শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণে উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
জনগণের প্রত্যাশা
জলঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেকেই মনে করেন, আলহাজ্ব সৈয়দ আলী একজন সৎ, উন্নয়নমুখী ও দায়িত্বশীল নেতা, যিনি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে কাজ করবেন।
তার নিজের ভাষায়—
“জনসেবা ক্ষমতার জন্য নয়, এটি মানবিকতার দায়িত্ব।”
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.