নিজস্ব প্রতিবেদক, (পাবনা)
মোঃ গোলাম মোস্তফা :
পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হেড নাজির ইনসাফ আলীর বদলি ও মাত্র দেড় মাসের মাথায় আবার একই পদে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে প্রশাসনে তুমুল আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগে বদলি হওয়া এই কর্মকর্তার দ্রুত স্বপদে ফেরা প্রশাসনের অভ্যন্তরে অস্বস্তি, ক্ষোভ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরে ইনসাফ আলীকে পদচ্যুত করা হয়। কিন্তু কার্যালয়ের একটি প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় মাত্র দেড় মাসের মাথায় তাঁকে ফের হেড নাজিরের দায়িত্বে বসানো হয়।
ডিসি অফিসের মতো সংবেদনশীল দপ্তরে এ ধরনের বদলি–পুনর্বহালের নাটকীয়তা সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যেও অস্বস্তির সঞ্চার করেছে।
ইনসাফ আলীর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনিয়ম, কর্মচারী বদলিতে প্রভাব বিস্তার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বহুদিনের। সম্প্রতি গরিব–অসহায়দের জন্য বরাদ্দ দুম্বার মাংস আত্মসাতের অভিযোগে তিনি দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে খবরের শিরোনাম হন।
এ অবস্থায় তাঁর দ্রুত স্বপদে ফেরায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগ যাচাই না করেই কীভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরলেন তিনি?
পদত্যাগের দাবি জানিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর স্থানীয় এক ব্যক্তি ইতিমধ্যে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে বদলি–পুনর্বহালের পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“ইনসাফ তার পদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদ করেছেন। গ্রামে জমি–বাড়ি, শহরে বহুতল ভবন—সবই গত সরকারের সময়ের ক্ষমতার দাপটে। সরকার পরিবর্তন হলেও তাঁর প্রভাব–প্রতিপত্তি কমেনি।”
নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) কে এম মামুনুর রশীদ বলেন,
“বদলি আমাদের এখতিয়ারের বাইরে। যাকে যেখানে প্রয়োজন হয় দায়িত্ব দেওয়া হয়।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
“কেন বদলি–পুনর্বহাল হয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। ডিসি স্যার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।”
ইনসাফ আলী অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“স্যাররা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন, তা তাঁরাই জানেন।”
পাবনার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন,
“আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি জানতাম না। খতিয়ে দেখে ত্রুটি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাবনার সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই পুরো ঘটনার স্বাধীন তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.