
মো:মাসুদ রানা,
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপির ভেতরেই তৈরি হয়েছে জটিল সমীকরণ। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর দ্বন্দ্বে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী রাশেদ খান। অন্যদিকে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। সর্বশেষ প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ে রাশেদ খান ও স্বতন্ত্র (বিএনপি) প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ—উভয়ের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষিত হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।এছাড়াও, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য মুর্শিদাজামান পপি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। অপরদিকে, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম হামিদ মনোনয়ন ফরম কিনলেও মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
তবুও, দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে একজন বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় ভোটের অঙ্কে নানামুখী আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি এখন স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে শহর ও গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সর্বশেষ যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির রাশেদ খান, স্বতন্ত্র (বিএনপি) সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবু তালিব, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল জলিল, জাতীয় পার্টির এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু এবং গণফোরামের খনিয়া খানমসহ ছয়জনের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদাজামান পপি, ওবাইদুল হক রাসেল ও মীর আমিনুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
স্থানীয় বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, হামিদুল ইসলাম হামিদ ও মুর্শিদাজামান পপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগকারী ও সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী রাশেদ খানকে দলীয় মনোনয়ন দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, আমি একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলাম। এলাকার অধিকাংশ বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আমার সঙ্গে রয়েছে। রাশেদ খান এ এলাকার ভোটার নন এবং অনেকেই তাকে চেনেন না। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের দাবির কারণেই আমি নির্বাচনের মাঠে থাকতে চাই। পাশাপাশি তিনি দলীয় প্রতীক বিবেচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি বিনীত আহ্বান জানান।অন্যদিকে, বিএনপির দলীয় মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে এ আসনে নির্বাচন করার দায়িত্ব দিয়েছেন। যারা বিএনপির রাজনীতি করেন, তারা অবশ্যই দল ও ধানের শীষের পক্ষেই কাজ করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মনোনয়ন নিয়ে সৃষ্ট অস্বস্তি দ্রুতই কেটে যাবে এবং দলের সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে কাজ করবে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.