
রফিকুল ইসলাম রফিক,
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্যের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন শুরু করেছেন চাঁদপুরের এক যুবতী। অনশনরত ওই তরুণীর নাম আসমা আক্তার (১৯)। তিনি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ফতেপুর গ্রামের বিল্লাল খানের মেয়ে। অভিযুক্ত সেনাসদস্য জাহাঙ্গীর আলম (২১) ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহা আলীর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। চাকরিরত অবস্থায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসমা আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে একাধিকবার দেখা-সাক্ষাতের পর তারা গোপনে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন আসমা।
আসমার অভিযোগ, বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে ঘরে তোলার দাবি জানান। এ সময় জাহাঙ্গীর আলম তার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জাহাঙ্গীর বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি কৌশলে জাহাঙ্গীরের গ্রামের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ভূরুঙ্গামারীতে আসেন। প্রথমে তাকে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হলেও তিন দিন পর জাহাঙ্গীরের খালাসহ কয়েকজন আত্মীয় তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ৩ মার্চ আসমা ভূরুঙ্গামারী থানায় নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তের বাবা শাহা আলী ও মা জাহানারা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে আটক দু’জনকে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আসমা আক্তার বলেন, “পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে এসেছি। প্রথমে আমাকে মেনে নেওয়া হলেও পরে অমানবিক নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হয়। আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, আংটি ও পায়ের নূপুর খুলে নেওয়া হয়েছে। মোবাইলে থাকা আমাদের ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন মামলা দায়ের ও দুইজনকে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সেনাসদস্য জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানা যায়নি। পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.