
রানা মাহমুদঃ
এক নিস্তব্ধ শোকের চাদরে কেরানীগঞ্জ।
রাজধানীর কোলঘেঁষে অবস্থিত শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা কেরানীগঞ্জের কদমতলী এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন হাজারো শ্রমিকের কর্মচাঞ্চল্যে মুখরিত থাকত পরিবেশ, সেখানে কেবল পোড়া গন্ধ আর স্বজন হারানোদের গগনবিদারী আর্তনাদ।
একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিয়েছে তাজা প্রাণ, পঙ্গু করে দিয়েছে অসংখ্য স্বপ্নকে। এই জাতীয় দুর্যোগে আর্তমানবতার পাশে দাঁড়িয়ে দেশনায়ক তারেক রহমান যে সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
গতকাল ০৪/০৪/২৬ইং কেরানীগঞ্জের কদমতলী আগানগর এলাকায় অবস্থিত অনিরাপদ গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কারখানার ভেতর বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিক ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।
ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কয়েক ঘণ্টার আপ্রাণ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও, ততক্ষণে কারখানার অভ্যন্তরে আটকা পড়া অনেক শ্রমিক দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। যারা জীবন বাঁচাতে পেরেছেন, তাদের অনেকের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। রাজধানীর বার্ন ইউনিটে চলছে মৃত্যু আর জীবনের পাঞ্জা লড়া।
এই মর্মান্তিক সংবাদ পাওয়ার পরপরই গভীর শোকে শেকাহত হয়ে পড়েন জননেতা তারেক রহমান। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় তিনি কেবল শোক প্রকাশই করেননি, বরং প্রতিটি বাক্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি তার হৃদয়ের গভীর আকুতি প্রকাশ পেয়েছে।
তিনি বলেন, “কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে সংঘটিত এই অগ্নিকাণ্ড অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই ধরনের দুর্ঘটনায় যে প্রাণহানি ঘটে, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই কঠিন সময়ে তিনি মানসিকভাবে তাদের প্রত্যেকের পাশে রয়েছেন।
জন নেতা তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা আহতদের চিকিৎসায় রক্তদানসহ সব ধরনের আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, আবাসিক এলাকার ভেতর থেকে দাহ্য পদার্থের কারখানাগুলো সরিয়ে নির্ধারিত শিল্প জোনে নিতে হবে। শিল্প কারখানায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকা বা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি থাকলে তাদের যেন ‘হত্যার দায়’ মেনে নিয়ে আইনের আওতায় আনা হয়, সেই দাবি তুলেছেন তিনি।
ভবিষ্যতে যেন কোনো মুনাফালোভী মালিক শ্রমিকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.