
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ছোট ভাইকে তুলে নেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছায়া থাকার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী মো. শাহিবুল ইসলাম পিপুল, Bangla Tribune-এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক যুগান্তর-এর ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি। এ ঘটনায় তিনি ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কলেজপাড়া (বইদাপাড়া) এলাকায় ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিনসহ কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামীকে হাসপাতালপাড়া সংলগ্ন শিশু কুঞ্জ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানার পর পিপুল তাৎক্ষণিকভাবে থানাকে অবহিত করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠায়।
কিন্তু ঘটনাটি ফেসবুকে প্রকাশ করাই যেন ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হুমকি-ধামকি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ‘বাহার’ নামে এক ব্যক্তি ফোন করে পিপুলের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং পোস্ট নিয়ে জবাবদিহি দাবি করে।
পরে ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজ ও তার সহযোগীরা তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি তারা নিজেরাই পিপুলের ভাইকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছোট ভাই শরীফের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিক পিপুলকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তানভীর নামে এক ব্যক্তি তাকে জোর করে একটি সিএনজিতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে কৌশলে পালিয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ভাঙ্গুড়া থানার এসআই আল-আমিন হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে যায়, যা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক পিপুল সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ বলেন,
“ঘটনাটি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভাঙ্গুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম জানান,
“লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশ্ন রয়ে গেল:
সত্য প্রকাশ করাই কি এখন ঝুঁকির নাম?
নাকি প্রভাবশালীদের ছায়ায় আইনের শাসনই প্রশ্নবিদ্ধ?
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.