
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর-বলুহা সড়কে নির্মাণাধীন একটি সেতুর সংযোগ সড়ক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতুটির কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ”। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কার্যাদেশ প্রদান করা হলেও ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও এখনও প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সংযোগ সড়কের ড্রাম শিটের গাইডওয়াল সরে গিয়ে রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে। ভেঙে গেছে ইটের সলিং ও নিরাপত্তা বেষ্টনী। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া প্রকল্প এলাকায় কোনো সাইনবোর্ড না থাকায় কাজের ব্যয়, সময়সীমা ও অগ্রগতির তথ্য থেকেও বঞ্চিত সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যাদেশ অনুযায়ী সাইট অফিস, লেবার শেড, ইটের খোয়া ভেজানোর পানির চৌবাচ্চা এবং শ্রমিকদের সুপেয় পানির ব্যবস্থাও করা হয়নি।
বলুহা গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক বলেন, “কাজের শুরু থেকেই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।”
শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা রানী বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। বর্ষায় সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।”
গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল আহমেদ আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, “কাজের কোনো সাইনবোর্ড নেই। ড্রাম শিট দিয়ে করা প্যালাসাইটিংয়ের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। এ সড়ক দিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার কারণে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সেতুর পাশের কিছু মাটি সরে গেছে। প্রয়োজনীয় মাটি না পাওয়ায় কাজ সম্পন্নে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন বলেন, “সেতুটি পরিদর্শন করেছি। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলে ঠিকাদারকে কোনো চূড়ান্ত বিল দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা জানান, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনও চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যাতে বিল উত্তোলন করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.