
মোঃ শামীম হাসান সুজন
শরণখোলা:
গত ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক পট পরিবর্তনের পর দেশের প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগে যখন বড় ধরনের রদবদল চলছে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি চক্র নানামুখী অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। অতি সম্প্রতি খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল হককে লক্ষ্য করে ফেসবুকে কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন পোস্ট শেয়ার হতে দেখা গেছে। তবে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব অভিযোগের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, বরং তা একটি কুচক্রী মহলের চরিত্রহননের অপচেষ্টা মাত্র।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এই কর্মকর্তা বর্তমানে খুলনা রেঞ্জে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কর্মপদ্ধতি এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তার মনোভাব সাবেক ও বর্তমান সহকর্মী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জে যোগদানের পর থেকেই ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ বা সাংবাদিকরা কোনো কাজের জন্য তার দপ্তরে গেলে বা ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যাতে কোনো সাধারণ মানুষকে অর্থকড়ি খরচ করতে না হয়, সে ব্যাপারে তিনি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন। তার স্পষ্ট বার্তা—”মামলা বা জিডিতে কোনো টাকা লাগবে না।” কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির সত্যতা প্রমাণিত হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ক্লোজড করে আইনের আওতায় আনছেন, যা রেঞ্জের পুলিশ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগে যোগদানের পর থেকেই মাদক চোরাকারবারি, চোরাচালান এবং বিগত ফ্যাসিবাদের দোসর চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ডিআইজি রেজাউল হক। তার এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে ওই অঞ্চলের অপরাধী চক্র ও স্বার্থান্বেষী মহল কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার এই কঠোর অবস্থানের কারণে ক্ষুব্ধ হয়েই একটি কুচক্রী মহল ভুয়া ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অবাস্তব ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে।
ব্যক্তিগত জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি এবং অত্যন্ত বিনয়ী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার জীবনযাপন অত্যন্ত সাধারণ। তার দপ্তরে বা বাসভবনে কোনো অহংকারের স্থান নেই বলে জানান তার নিকটজনেরা। ভোরের কাগজের স্টাপ রিপোর্টার মোঃ মিজানুর রহমান আকন একাধিক গণমাধ্যমকর্মী নিশ্চিত করেছেন যে, তথ্য সংগ্রহ বা পেশাগত কাজের প্রয়োজনে সাংবাদিকরা তার কাছে গেলে তিনি অত্যন্ত ভদ্রভাবে তাদের আপ্যায়ন করেন, চা-কফি খাওয়ান এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই তিনি সাধারণ মানুষের আইনি সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অতীত পোস্টিং, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কিংবা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে কাল্পনিক বন্ধুত্বের যে গল্প ছড়ানো হচ্ছে, তার কোনো দালিলিক বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে সৎ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতেই এই প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল এবং পুলিশ প্রশাসনের একাংশ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানিয়েছেন, ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক একজন অত্যন্ত ভদ্র, সৎ এবং সুন্দর মনের মানুষ। বগুড়ার সন্তান হলেই যেমন কেউ ঢালাওভাবে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ট্যাগ পেয়ে যান না, ঠিক তেমনি কর্মদক্ষতা ও সততাই একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তার আসল পরিচয়। খুলনা রেঞ্জে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে তার চলমান তৎপরতা বজায় রাখতে এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধ হওয়া জরুরি বলে মনে করেন রেঞ্জবাসী
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.