
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পলাশবাড়ীতে ভাড়া বাসায় ইয়াবা ও এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হওয়ার ঘটনায় আলোচিত ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ক্লোজ করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করে প্রাথমিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ট্রাফিক বিভাগ।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর আলতাব হোসেন জানান, পলাশবাড়ীর ওই ঘটনায় সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ বিভাগের উচ্চতর কর্তৃপক্ষ। ঘটনার তীব্রতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ জুন রাতে। সম্প্রতি ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি করছিলেন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর। এ সূত্রেই নিঝুম নামের স্থানীয় এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সাথে তার পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওই রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওই নারী ক্রিয়েটরের সাথে অবস্থানকালে স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসায় সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর ও নিঝুমের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন বাসাটি ঘিরে ফেলেন এবং তাদের বের হতে বাধা দেন। পরে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের কথাও জানা যায়। ঘটনার পরপরই মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন ও একটি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে ওই রাতেই অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হলেও শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘটনাটি সরবভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আলতাব হোসেন বলেন, আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দেখছি। ইতোমধ্যে তাকে ক্লোজ করে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক সহকর্মী জানান, পরিকল্পিতভাবে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীরকে ফাঁসানো হয়েছে এবং ওই নারী একজন চিহ্নিত ইয়াবা খোর।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে না। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে গাইবান্ধা জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.