
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর কেরানীগঞ্জে রাত বাড়লেই জমে ওঠে কথিত ‘সালসা বার’। বাইরে থেকে সাধারণ জুসের দোকান মনে হলেও, অভিযোগ অনুযায়ী এসব স্থানে বিক্রি হচ্ছে মাদক ও স্নায়ু উত্তেজক উপাদান মিশ্রিত এক ধরনের পানীয়, যা তরুণদের কাছে ‘পিনিক’ নামে পরিচিত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে অন্তত ১০ থেকে ১২টি এমন বার সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত এসব দোকানে তরুণ-তরুণীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতারা ১৫০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে এই পানীয় গ্রহণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব বারে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকার মাদকজাতীয় পানীয় বিক্রি হয়। কেরানীগঞ্জের তেলঘাট, হিজলতলা বাসস্ট্যান্ড, আগানগর ব্রিজ এলাকা, কদমতলী ট্রাফিক বক্স সংলগ্ন এলাকা এবং জনি টাওয়ার মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে এই ‘পিনিক’ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
একাধিক নমুনা পরীক্ষায় উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন, গাঁজা, ঘুমের ওষুধ এবং যৌন উত্তেজক উপাদানসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও ঘুমের ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করলে কিডনি, হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন এই পানীয় গ্রহণ করলে ক্ষুধামান্দ্য, দুর্বলতা, মাংসপেশি ক্ষয়, হাত-পা কাঁপা এবং যৌন সক্ষমতা হ্রাসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যৌন উত্তেজক ওষুধ, সিনথেটিক ক্যাফেইন, গাঁজা, ঘুমের ওষুধ, মিষ্টি কুমড়া, বিভিন্ন রাসায়নিক রং ও সুগন্ধি মিশিয়ে এই পানীয় তৈরি করা হয়। পরে তা বোতলজাত করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গভীর রাতে গোপনে এসব পানীয় উৎপাদন করা হয় এবং উৎপাদনের সময় তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হয়।
এদিকে, বিশেষজ্ঞরা নতুন এই মাদকের বিস্তার রোধে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার, উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.