বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম,
আমি জামান আহমেদ। আমার বাবা মা কেউ বেঁচে নেই। আমার বাবা ১৯৯৬ তে ব্রেইন স্টক ও মা ২০০৬ এ রোড এক্সিডেন্টে এ মারা যান। আমি এতিম ও মজলুম। আমি যে কত ধরনের জুলুমের শিকার তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি অতি সাধারণ ঘরের ছেলে। আমার মা বিএনপি মহিলা দলের সদস্য ছিল। আমরা বিএনপি দলকে পছন্দ করি ও ভালোবাসি। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে কষ্টে আছি ও ৯ বছর ধরে ভাইয়ের হত্যার বিচারের জন্য সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরতেছি। বিএনপি দলকে সমর্থন করি তাই ৯ বছর ধরে ভাইয়ের হত্যার বিচার পাই নাই। নিজ এলাকায় থাকতেও পারি না। আমার বড় ভাই জাহিদ উদ্দিন রকি তাকে নয়ন ও তার সঙ্গীরা হত্যা করেছে। আমি নামাজ পড়ে আল্লাহতাআলার কাছে মোনাজাত করে বলেছি হে আল্লাহ এই স্বৈরাচারের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করো, এই জুলুমকারীর হাত থেকে আমাদের রক্ষা করো ও ক্ষমতা অপব্যবহারকারীর হাত থেকে আমাদের রক্ষা করো। (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।) ২৩.০২.২০২৬ ইং তারিখে ও ১১.০৩.২০২৬ ইং তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুরাতন সংসদভবন, তেজগাঁও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর চিঠি দিয়ে এসেছি। কেউ কোন রকম রেসপন্স করেননি। (চিঠির রিসিভ কপির ছবি সংযুক্ত করা হলো।) ১৯৬ এভিনিউ গুলশান-০২ এর বাসভবনেও ২৩.০২.২০২৬ ইং তারিখে ডক্টর জোবাইদা রহমান ম্যাডাম ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ম্যাডাম এর বরাবর চিঠি সোহেল ভাইয়ের নিকটে দিয়ে এসেছি। ওখান থেকেও কেউ রেসপন্স করেননি। (চিঠির রিসিভ কপির ছবি সংযুক্ত করা হলো।) ২০২২ ও ২০২৩ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ম্যাডাম, বিএনপির মহাসচিব স্যার, ও দুইজন এমপি বরাবর চিঠি দিয়ে এসেছি। ২০২২ সালে আওয়ামী স্বৈরাচার আমল থেকে সাবেক আওয়ামী লীগ এর এর প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রী ও এমপি ১২জন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দিয়ে ও সাক্ষাত করে আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার পাইনি। ২০২২ সালে টিভি চ্যানেল বরাবর চিঠি দিয়েও কেউর সাহায্য পায়নি। এখনো আমার ভাইয়ের হত্যাকারীরা ভোল পাল্টে ঘোরাঘুরি করতেছে। আমি অনেক বিপদে আছি। তাই আপনার কাছে লিখিত অভিযোগ লিখলাম। নয়ন ও তার সহযোগীরা আমার ভাইকে মার্ডার করেছে। আমার ভাইয়ের হত্যা করে তার এই বন্ধু নয়ন ও তার সহযোগিরা। নয়ন হচ্ছে মহাখালী টিবি গেট গেইট এর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হবি কমিশনারের ছেলে। নয়নের বড় ভাই দুলাল বনানী থানার আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক ছিল ও পরে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও ছিল। তাদের অনেক ক্ষমতা। আমার ভাই নয়নের কাছে টাকা পাইতো। আমার ভাই বায়িং হাউজ এর ব্যবসা করতো। নয়ন মাদকের ব্যবসা করত আমার আমার ভাই তাকে টাকা দিয়েছিল। টাকা চাওয়াই আমার ভাইয়ের কাল হয়েছে। আমার ভাইকে ১০ই অক্টোবর ২০১৭ সারা রাত টর্চার করে মেরেছে। আমার ভাই ১১ই অক্টোবর ২০১৭ রাতে ৩-৪ ঘটিকার মধ্যে মহাখালী আইসিডিডিআরবি এর পাশের গলি থেকে দৌড় দিয়ে মেইন রোডের দিকে বের হয় গলির মাথায় চায়ের দোকানের এখানে এসে পড়ে যায় ও পরে তাকে কে বা কারা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে রাখে। আমার ভাই ১৩ই অক্টোবর ২০১৭ সকাল সাড়ে সাতটায় মারা যায়। তারপর পোস্টমর্টেম করার পরে ১৫ই অক্টোবর বনানী থানার পুলিশ আমার নানুর বাসায় আসে মহাখালী ওয়ারলেস গেইট। আমার ভাইয়ের বডি যেদিন ঢাকা মেডিকেল এ আনতে যাই সেদিন পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও দেয়নি ও আমার ভাইয়ের বডিতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ সারা শরীরে রক্ত জমাট বেধে ছিল জায়গায় জায়গায়। যেদিন ভাই এর বডি আনতে ঢাকা মেডিকেল গিয়েছি নয়ন আমাকে অনেকবার কল দেয়। কল রেকর্ডিং পিবিআই ইন্সপেক্টর মনিরের কাছে পেনড্রাইভে দিয়েছে। তারা পরিচয় দেয় তারা আওয়ামিলীগের প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব লোক। আমার কাছে ভাইয়ের হত্যার প্রমান আছে। (প্রমান সংযুক্ত করা হলো)। আমার ভাইকে মার্ডার করার পরে তারা আমাকে দুইবার হত্যার চেষ্টা করে। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে যাই। যখন আমার ভাইয়ের মার্ডার এর বিষয় নিয়ে বনানী থানায় মামলা করতে চেয়েছি তখন বনানী থানার সেকেন্ড অফিসার সাইয়ান অলিল্লাহ আমার কেস নেয় নাই। আমি গুলশান -২ এ একটা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চেয়ারম্যানের পিএস হিসেবে কর্মরত ছিলাম। সেই কোম্পানিতে যেয়ে আমার ভাইয়ের হত্যাকারী নয়ন অনেক হুমকি দিয়ে আসে পরে আমার চাকরি চলে যায়। পিবিআই এর ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম আমার কর্মক্ষেত্র বিষয়ে আমার ভাইয়ের হত্যাকারী নয়ন কে বলে। পিবিআই ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম আমার অফিসে গুলশান থানা থেকে পুলিশ পাঠায় তাকে আমি প্রথমেই এই বিষয়ে নিষেধ করেছিলাম, যে আমার কর্মস্থানে কাউকে অবহিত কইরেন না। তাদের অনেক ক্ষমতা। আমার ভাইয়ের হত্যাকারি নয়ন পরিচয় দেয় শেখ হাসিনা নাকি তাদের আত্মীয়। এই বলে সবাইকে পরিচয় দেয় এবং ভয়ভীতি দেখায়। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার দাবিতে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা করেছি। এই পর্যন্ত ০৩ বার হেয়ারিং এর তারিখ পরেছে ১ম দিকে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট ছুটিতে থাকে এবং ০৩ নম্বর হেয়ারিং তারিখে ম্যাজিস্ট্রেট বদলি হয়ে যায়, যানিনা কেন ঝএমন হয়েছে ২৫ শে জুলাই ২০২৩ ইং তারিখে হেয়ারিং এর তারিখ পরেছে, মামলা পিবিআই এর আন্ডারে যায়। পিবিআই এর ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম আমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে ও তার মনগড়া প্রতিবেদন দিয়েছে । তারপর আমি পিবিআই হেড কোয়াটার বনোজ কুমারের অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার এর সাথে দেখা করি আর ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম এর বিষয়ে বলি। তাও কোন কাজ হয়নি। এখন আমি কোর্টের নারাজি দিয়ে কেস সি আই ডি তে নিয়েছি । সি আই ডি ইন্সপেক্টর মনির স্যারের দায়িত্বে এখন কেস চলমান। আপনি সি আই ডি কে বিষয়টি অবহিত করলে তারা কেসটি সঠিকভাবে সুষ্ঠ তদন্ত করবে। বর্তমানে আমাকে অনেক ভাবে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এই নিয়ে আমি অনেক বিপদে আছি ও আমার জীবনের ঝুঁকি আছে। বর্তমানে আমার কেস চালানোর ধঝমতো অবস্থা নাই ও আমার কোন কাজ নেই। এক বেলা খাবার খেলে দুই বেলা না খেয়ে থাকি। আপনি আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে আমার প্রান বেঁচে যাবে।
আমার বিনীত নিবেদন এই যে,
স্যার দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন।
নিবেদক
জামান আহমেদ
০১৭০৫৭১৭০২০
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.