
আরিফ বিল্লাহ।
নেছারাবাদ(পিরোজপুর
কালীগঙ্গা নদীর করাল গ্রাসে মুহূর্তের মধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা ও এক চিলতে আবাদি জমি। ভিটামাটি হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ষাটোর্ধ্ব রোমিলা বেগমের। সর্বস্বান্ত অসহায় এই বৃদ্ধার একটিই আকুতি—‘নদী তো আমার সগ্গোল কাইড়া নিল, এখন মোরে একটু মাথাগোঁজার ঠাঁই দেও বাবা।’
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের চাঁদকাঠী -- কলাখালী খেয়াঘাটের বাসিন্দা মৃত শাহেদ আলী শেখের স্ত্রী রোমিলা বেগম। আকাশে মেঘ জমলেই উৎকণ্ঠা বাড়ে তার। বৃষ্টি নামার আগেই তিনি ছুটে যান বসতঘর সংলগ্ন কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে। প্রতিবারই মনে শঙ্কা জাগে আর কতটুকু জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেল? কয়েক বছরের ধারাবাহিক ভাঙনে নদী এখন এসে দাঁড়িয়েছে তার বসতঘরের একেবারে সন্নিকটে।
প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলা আর ভাগ্যের নির্মম পরিনতি নিঃস্ব রোমিলা বেগমের পুরো জীবনটাই আজ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এক সময়ে স্বামী শাহেদ আলীর সবই ছিলো, ক্ষুধার্ত কালীগঙ্গার পেটে তাদের বহু সম্পদ ও জমি বিলীন হয়ে আজ তারা নিঃস্ব।
এখন শুধু মাথাগোঁজার ঠাঁই আছে জরাজীর্ণ একটি বসতঘর। ঘরের টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে ঘরের মেজে ভেসে যায়। ঝড় বৃষ্টি হলে যেকোনো সময় বসতঘরটি ভেসে যেতে পারে কালীগঙ্গার পেটে। এই আতংকেই কাটে তার প্রতিটা মুহূর্ত। মাঝেমধ্যে জোয়ারের পানিতে থৈ থৈ করে ঘরের ভিতর পর্যন্ত।
জরাজীর্ণ বসতঘরে বসবাস করা রোমিলা বেগম নানাবিধ রোগ ব্যাধিতেও আক্রান্ত। চার কন্যা সন্তানের মধ্যে এক মেয়ে প্রতিবন্ধী। সংসারের উপার্জন করার মতো কেউ নেই। বড় মেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের সামান্য আয়ে নিদারুণ কষ্টে কাটে তার প্রত্যহিক জীবন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালীগঙ্গার অব্যাহত ভাঙনে প্রতিনিয়ত রোমিলা বেগমের মতো অনেক পরিবারই নিঃস্ব হচ্ছে। কিন্তু উপযুক্ত পুনর্বাসন না পাওয়ায় এদের মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। রোমিলা বেগমের আকুতি এখন শুধু কালীগঙ্গা পাড়ের বাতাসেই ভাসছে না, তা হয়ে উঠেছে বাস্তুহারা হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার তাড়না।
ঝড়-বৃষ্টি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো এই বৃদ্ধা এখন তাকিয়ে আছেন সরকারি ও বেসরকারি মানবিক সহায়তার দিকে। একটু আশ্রয়, মাথার ওপর একটুকরো নিরাপদ ছাদই পারে রোমিলা বেগমকে শেষ বয়সে একটু শান্তিতে ঘুমানোর সুযোগ করে দিতে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.