
আরিফ বিল্লাহ।
নেছারাবাদ(পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নেছারাবাদে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দৈহারী নৌপুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলার ভরতকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি কাঠবডির ট্রলারে তল্লাশি করে এসব মাংস উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার খাসতবক গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে মো. খলিল (৪১) এবং একই উপজেলার তাফালবাড়িয়া গ্রামের চান মিয়া মাঝির ছেলে বাবুল ফরাজি (৪২)।
দৈহারী নৌপুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে উপজেলার বেলুয়া নদীর ভরতকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি কাঠবডির ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে ২২০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। পরে মাংস পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খলিল ও বাবুল ফরাজিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দৈহারী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকা থেকে বিভিন্ন নৌপথে নেছারাবাদে অবৈধভাবে হরিণের মাংস আনা হচ্ছে। কাঠ, গোলপাতা ও মাছবাহী ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযানে এসব মাংস পরিবহন করা হয় বলে তাঁদের দাবি। পরে নেছারাবাদের বিভিন্ন এলাকায় থাকা ব্যবসায়ীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে এ-সংক্রান্ত ঘটনায় কয়েকজন আটক হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি অবৈধ এ বাণিজ্য। এমনকি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের কারণে পচা মাংস বাজারজাত করার অভিযোগও রয়েছে। আবার হরিণের মাংসের সঙ্গে অন্য প্রাণীর মাংস মিশিয়ে বিক্রির অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, অভিযানে জব্দ করা ২২০ কেজি মাংসের পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি হরিণ শিকার, মাংস পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নৌপথে নজরদারি ও টহল আরও জোরদারের দাবি তাঁদের।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.