স্টাফ রিপোর্টার :
পার্বতীপুরে আজ ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামে সরেজমিনে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, কাঁদা পানির ডোবায় দলবদ্ধভাবে সাঁতার কাটছে একঝাঁক ছোট্ট হাঁসের বাচ্চা। মা নেই পাশে তবুও ক্ষুধার তাড়নায় এরা নিজেরাই খাবারের সন্ধানে বেড়িয়েছে। এটাই এখন মজিতনের হাঁসের বাচ্চাদের নিত্যদিনের লড়াই। মজিতেন শুরুটা ছিল স্বপ্ন দিয়ে, ভেবেচিন্তে কয়েকটি হাঁস পুষছিল । হাঁসগুলো ডিম পাড়লে তিনি তা দিয়ে বসান। ২৮ থেকে ৩০ দিন পর ফুটে বের হয় ১৫ থেকে ২০টি ফুটফুটে বাচ্চা। এখন তাদের বয়স ১ মাস থেকে দেড় মাস। এদের মধ্যে চিকা, ইদুর,ব্যাঙ কিছু বাচ্চাকে খেয়ে ফেলে। আর যে কটি রয়েছে সেটিরও জায়গার অভাবে জমি না থাকায় বাচ্চাগুলোকে পাশের বাড়ির ডোবা ও জমিতে যেতে হয়। এতে প্রতিবেশীরা রাগ করায় বাধ্য হয়ে মজিতন হাঁসগুলোকে বেঁধে রাখেন। কিন্তু ২-৪ দিন ধরে এক জায়গায় খাবার না পেয়ে বাচ্চাগুলো এক ডোবা থেকে অন্য ডোবায় উঠে আসে । এ অবস্হায় মজিতন পাশের বাড়ির শাহনাজ কে ডেকে বলেন, “আপা, আমার হাঁসের বাচ্চাগুলো দেখছেন কোথায় এসেছে? মা ছাড়া ওরা একা একা ঘুরছে। এরা আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা, মা ছাড়া এত ছোট বাচ্চা কে দেখবে? পাশেই শিয়াল, সাপ, বেজি। যে কোনো সময় আক্রমণ করতে পারে। তবুও বাচ্চাগুলো দলবদ্ধভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। মজিতনের আশা, বাচ্চাগুলো বড় হলে প্রতিটি হাঁস ৫ 'শ টাকা দরে বাজারে বিক্রি করবেন। সেই টাকা দিয়ে একটি বড় ছাগল নিবে কিন্তু প্রশ্ন হলো, মা ছাড়া এরা কি আদৌ বড় হতে পারবে? নিরাপত্তা কে দেবে? স্হনীয়রা বলছেন, “ক্ষুধা এমনই এক জিনিস যা সবাইকে বাঁচতে শেখায়। এরা মা ছাড়াই খাবার খুঁজছে। এটাই জীবনের শিক্ষা।” এছাড়াও মজিতন বলছে “আমার আশা কি পূরণ হবে? ভাগ্য কি সহায় হবে?” বিধির বিধান কে খণ্ডাবে? এভাবেই অভাবের সংসারে স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝে লড়াই করে চলেছে হাঁসের বাচ্চাগুলো।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.