
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় প্যারাগন শালবাহান লিমিটেডের বর্জ্য পদার্থ কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ায় একাধিক কৃষকের ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা সাময়িক ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে সমস্যাটির স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের ঘটনাটি ঘটেছে জেলার রুহিয়া উপজেলার ৩ নম্বর রাজাগাঁও ইউনিয়নের খড়িবাড়ী-শালবাহান এলাকায়।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, আগে ফার্মটির আশপাশের কৃষিজমিতে বর্জ্যের কারণে ফসলের তেমন ক্ষতি না হলেও সম্প্রতি সেখানে নতুন একটি জৈব সার কারখানা চালুর পর থেকে সমস্যাটি প্রকট হয়েছে। বর্জ্য পদার্থ জমিতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
এলাকাবাসী জানায়, এর আগেও ফার্মটির বর্জ্য নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। গত বছর বা তারও আগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, ক্ষতিপূরণ দিয়ে সাময়িকভাবে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মূল সমস্যার সমাধান না হলে প্রতিবছরই তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
ভুক্তভোগী কৃষক মোস্তাফিজুর, গুলজার, নাসিরুল, রুহুল আমিন ও হেলাল জানান, বর্জ্য পদার্থের প্রভাবে বর্তমানে তাদের প্রায় তিন একর জমির করলা খেত নষ্ট হওয়ার পথে। তারা বলেন, ফসল উৎপাদনের জন্য জমিতে শ্রম, সার, বীজ ও সেচ বাবদ উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এখন ফসল নষ্ট হলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
কৃষকদের দাবি, শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, ফার্মের বর্জ্য যাতে কোনোভাবেই কৃষিজমিতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও ফসলের ওপর বর্জ্যের প্রকৃত প্রভাব নির্ণয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে প্যারাগন শালবাহান ফার্মের ব্যবস্থাপক আব্দুল আলিম বলেন, কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে একজন কৃষি কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেছেন। তিনি পরিদর্শনের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিলে তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সমস্যাটি সমাধানে কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যায় কি না, সেটিও কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।
তবে কৃষকদের প্রত্যাশা, তদন্ত বা ক্ষতিপূরণের মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটি থাকলে তা চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ন্যায্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে—এমনটাই দাবি তাদের।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.