মোঃ আরাফাত হোসেন:
বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক ইউনিটে নতুন আহ্বায়ক বা সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। তাঁর দীর্ঘ রাজপথের লড়াই-সংগ্রাম, ত্যাগ এবং দুর্দিনের সাহসী ভূমিকা বিবেচনা করে হাইকমান্ড নতুন করে তাঁর ওপরই আস্থা রাখতে পারে বলে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে জোর গুঞ্জন চলছে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোন্দল ও স্থবিরতা কাটিয়ে দলীয় নীতি-শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রাজপথের ত্যাগী, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে এনে মহানগরের শীর্ষ এই ইউনিটে নতুন প্রাণ সঞ্চারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড।
দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে যেকটি মুখ সবসময় অগ্রভাগে ছিল তাঁদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরব অন্যতম। ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে রাইফেল, বুলেট ও টিয়ারশেলের হুমকি উপেক্ষা করে রাজধানীর রাজপথে বিশাল মিছিল ও আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা রেখেছিলেন তিনি। রাজপথের এই বীরত্বপূর্ণ লড়াই ও চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার সক্ষমতা তাঁকে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অনেক দূর এগিয়ে রেখেছে।
বিগত চার দশক ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এই ত্যাগী নেতা। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনকে হৃদয়ে ধারণ করে তিনি রাজনীতির মূলধারায় নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। মহানগরের সাধারণ নেতাকর্মীদের মতে, সাইফুল আলম নীরব কখনো আপস করেননি এবং কোনো অন্যায়-অনিয়মকে প্রশ্রয় দেননি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর সুদৃঢ় সম্পর্ক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে সবসময়ই অপরিসীম ভূমিকা পালন করেছে।
এ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা জানান, আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথের পরীক্ষা দেওয়া, অনুগত এবং ‘ক্লিন ইমেজের’ নেতাদের দিয়েই মহানগরের নেতৃত্ব সাজানো হবে। এ ক্ষেত্রে সাইফুল আলম নীরবের মতো রাজপথের লড়াকু ও বিশ্বস্ত নেতার হাতে ঢাকা উত্তরের দায়িত্ব অর্পণ করা হলে সংগঠন নতুন করে গতি পাবে বলে আশাবাদী সাধারণ নেতাকর্মীরা।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনের নাম। সাবেক এই ছাত্রনেতা বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সামনের সারিতে সক্রিয় ছিলেন। মহানগরজুড়ে একজন ‘ক্লিন ইমেজের’ রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তাঁর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নামও সভাপতি পদের আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব পদে শক্ত আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আনারুজ্জামান আনোয়ার, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইউসুফ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং স্থানীয় কিছু বিতর্কিত ঘটনায় নাম আসার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় শাখাও ভেঙে দিয়ে কয়েকজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রমে নতুন গতি ও স্থবিরতা কাটানোর তাগিদ অনুভব করছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল।
এ বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক সিনিয়র নেতা বলেন, “ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুশৃঙ্খল করতেই দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক সংগঠনে এই পুনর্গঠন অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমি আশাবাদী যে নতুন কমিটিতে রাজপথের ত্যাগী, অনুগত ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাই যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন।”
তবে আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে দলীয়ভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন উত্তর মহানগর বিএনপির কমিটি প্রকাশ করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.