
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী, নীলফামারী
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরধরে জোরপূর্বক জমি জবরদখল, বসতবাড়িতে হামলা ও প্রতিপক্ষের লোকজন প্রাননাশের হুমকি প্রদর্শন মর্মে ওসমান গণী (২৬) নামের এক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় ২জন গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২০শে অক্টোবর মঙ্গলবার ডোমার উপজেলার হরিনচড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড শেওটগাড়ি হাজীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। গণমাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করে ভুক্তভোগী ওসমান গণী বলেন, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্প আমার ছোট চাচা আব্দুল জলিলের আব্দুল ক্রয়কৃত জমি যাহার জিএল নং ৪৬, খতিয়ান নং ১৩৬ ও ৩০৩০ দাগ নাম্বারের ৪৯ শতক জমির মধ্যে ৮শতক ৩৩ পয়েন্ট জমি আমরা তিন ভাই আলী হোসেন, ওসমান গণী ও ওমর ফারুক ক্রয় করি। উক্ত জমি ক্রয় কালে আমার চাচা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান সার্বিক সহযোগিতা করেন এবং জমি ক্রয়ের পর তিনি নিজেই উক্ত জমিতে মাটি ভরাট করাসহ ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করতে সহায়তা করেন। কিছু দিন পর চাচা ইউপি সদস্য মান্নান হোসেন আমার ছোট চাচা আব্দুল জলিল প্রতিপক্ষের পক্ষ নিয়ে আমাদের জমি জবরদখল করতে আসেন। এ নিয়ে বাকবিতন্ডা হয় এবং স্থানীয় ভাবে কয়েকবার বিচার শালিস হয়েছে। কিন্তূ প্রতিপক্ষরা বিচার ডেকে শালিসে উপস্থিত হয় না। পরে তারা আমাদের নামে থানায় মিথ্যা ও হয়রানি মুলক মামলা দায়ের করে। যার বিচারকার্য চলমান রয়েছে। এর মধ্যে গত ২০শে অক্টোবর শালিসের নামে বসার কথা বলে আমাদের ডেকে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আমাদের বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত হয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে। তাদের এ হামলার স্বীকার হয়ে আমার বড় ভাই আলী হোসেনের হাত ভেঙ্গে যায় ও মাথা ফেটে যায় এবং তাওয়াই আব্দুল মান্নান (৬০) রক্তাক্ত জখম হয়ে বর্তমানে রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ হামলার ঘটনায় প্রতিপক্ষরা আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুট করে। এছাড়াও হামলার সময় আমার মায়ের জোরপূর্বক স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তাদের মধ্যকার এ বিবাদ চলে আসছে প্রায় ২/৩ বছর হইতে। বিচার শালিস হয় কিন্তূ প্রতিপক্ষ মাহফুজার রহমান বাবু ও সাবেক ইউপি সদস্য আঃ মান্নান গং বিচার মানেন না। অত্র ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান জানান, আমাদের দৃষ্টিতে জলিল মাষ্টারের দোষ। কেন না জমি বিক্রির পর কেন তিনি পুনরায় জমি জবরদখল করবে। আর বাবুর বোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী একজন শিক্ষিকা হয়ে আপন ভাইদের নির্দেশ প্রদান করে এ ঝগড়া বিবাদ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা স্থানীয় ভাবে অনেকবার সমাধানের চেষ্টা করেছি কিন্তূ জলিল গংয়ের ইন্দোনে শিক্ষিকা মায়া ও তার ভাই বাবু বিচার শালিস না মেনে টাকার গরমে মামলার হুমকি দিয়ে আসছে। এ বিষয়ে ওসমান গণী জানান, এ হামলার ঘটনার আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত তাই ৮জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৫/৬জন আসামী করে ডোমার থানায় এজাহার দায়ের করেছি। আশা রাখি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। অভিযুক্ত মাহফুজার রহমান বাবুর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুল্লাহ বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.