
উপজেলা প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ১৫৫ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি অভিযোগ জমা দেওয়ার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর থাকা একাধিক শিক্ষকের দাবি, এ ধরনের কোনো অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। শিক্ষকদের অভিযোগ, তাঁদের অজ্ঞাতসারে স্বাক্ষর জাল করে কিংবা অন্য কোনোভাবে নাম ব্যবহার করে এই অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ১৫৫ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম ও শিক্ষকদের হয়রানিসহ অন্তত আটটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
এসব অভিযোগের তদন্তের জন্য গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শরীয়তপুর পিটিআই (প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) কর্তৃপক্ষ তদন্তের নোটিশ জারি করে। নোটিশ অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ২৬ অক্টোবর সোমবার সকাল ১১টায় জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তদন্ত কমিটি শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হলে কার্যালয়ের বাইরে একদল শিক্ষার্থী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমানের অপসারণের দাবিতে মিছিল করে। এ সময় তাঁদের শিক্ষা কর্মকর্তার অপসারণ চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
তবে উপস্থিত শিক্ষকরা অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন। অভিযোগে স্বাক্ষর থাকা শিক্ষকদের দাবি তারা এবিষয়ে কিছুই জানেন না। কেউ তাদের স্বাক্ষর জাল করে এমনটা করেছে বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর থাকা রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, “ওই অভিযোগপত্রে আমার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। একটি প্রতারক চক্র আমার স্বাক্ষর জাল করে অভিযোগপত্রে ব্যবহার করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”
এছাড়া একই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর থাকা জাজিরা হাট সরকারি মডেল স্কুলের শিক্ষক মো. মোস্তফা কামাল, উত্তর বাইকশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান রাসেল, মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিপা, ইসমাইল মোল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যাদলয়ের শিক্ষক সুমা, নগর বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিরাজুল হকসহ প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষকের দাবি, তাঁরা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি। তাঁদের অজ্ঞাতসারে অভিযোগপত্রে নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের স্বাক্ষর জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান বলেন, “এসব ঘটনা নিয়ে আমি বিব্রত। আমার বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ থাকলে তা শিক্ষকদের থাকার কথা। অভিযোগ থাকলে তাঁরা আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে জানাতে পারেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে তারা আমার বিরুদ্ধে কেন স্লোগান দেবে? তদন্ত কর্মকর্তাদের সামনেই শিক্ষকরা বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। তারপরও কেউ গোপনে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে সম্মানহানির চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।"
এবিষয়ে শরীয়তপুর পিটিআই (প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট) এর সুপারিন্টেন্ডেন্ট মোঃ সেলিম জানান, এখনও তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.