
বাবলু শেখ রাজবাড়ী
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘর থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোহাম্মদ রেজাউল আলমসহ কয়েকজনের ওপর মিথ্যা দায় চাপিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়মুক্তির চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করে চাকরি ফিরে পেতে রাজবাড়ী পোস্ট অফিসের এমএলএসএস রেজাউল আলম ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলের কাছে আবেদন করেছেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ জুলাই রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সাদা স্লিপের মাধ্যমে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় প্রধান ডাকঘরের লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পোস্টমাস্টার বিকাশ বিশ্বাস, এসবি কাউন্টার অপারেটর প্রণব কুমার সরকার, এসবি লেজার অপারেটর গোলাম মোস্তাফা বাচ্চু ও ট্রেজারার নাজমুলের নাম আলোচনায় আসে।
রেজাউল আলমের দাবি, ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে মেইল ক্যারিয়ার পদে জনবল না থাকায় তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পাশাপাশি পিএলআই লেজার রাইটারের কাজও করতেন তিনি।
চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে পোস্টম্যানের স্বল্পতার কারণে তাঁকে চিঠিপত্র বিলির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সকালে মেইল ক্যারিয়ারের কাজ শেষ করে বেলা ১১টার দিকে চিঠিপত্র বিলির কাজে বের হতেন তিনি। চিঠি বিলির কাজ শেষে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে ডাক দিয়ে তাঁর দায়িত্ব শেষ করতেন।
চিঠিপত্র বিলির কাজে দিনের বেশির ভাগ সময় ডাকঘরের বাইরে থাকতে হতো রেজাউল আলমকে। অথচ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তাঁকে অভিযুক্ত করে মূল দায়ীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রাজবাড়ীতে একাধিক বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ডাকঘরের লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পোস্টমাস্টার বিকাশ বিশ্বাস, ট্রেজারার নাজমুল ও প্রণবের নাম একাধিকবার উঠে এসেছে। তবে এসব মানববন্ধনে এমএলএসএস রেজাউল আলমের নামে সরাসরি কোন ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়া যায়নি ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, তাঁরা পোস্ট অফিসে ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা জমা রাখতে গেলে পোস্টমাস্টার বিকাশ বিশ্বাস তাঁদের লেটার রাইটার শিহাব মৃধার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। শিহাব মৃধা সাদা স্লিপের মাধ্যমে তাঁদের টাকা গ্রহণ করতেন এবং কয়েক কর্মদিবস পর জমার বই দেওয়ার আশ্বাস দিতেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের জমা দেওয়া টাকা ডাকঘরের ট্রেজারিতে জমা হয়নি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁরা টাকা জমা দিতে গেলে বেশির ভাগ সময় অফিসে রেজাউলকে দেখতেন না ।
তবে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করতে রেজাউল আলমকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
রেজাউল আলম বলেন, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে পোস্টম্যানের স্বল্পতার কারণে তাঁকে চিঠিপত্র বিলির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সকালে চিঠি বিলির কাজে বের হতেন এবং রাতে রেলওয়ে স্টেশনে আসা ট্রেনে ডাক দিয়ে তাঁর দায়িত্ব শেষ করতেন। অথচ তাঁকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর তেমন কোনো জমিজমা নেই, বাড়িতেও কোনো পাকা স্থাপনা নেই। মিথ্যা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে দ্রুত চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
রাজবাড়ী পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার মো. শামীম আহমেদ বলেন, রাজবাড়ী পোস্ট অফিস থেকে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া বিজ্ঞ আদালতে সাবেক পোস্টমাস্টার বিকাশ বিশ্বাস, শিহাব মৃধাসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে রেজাউল আলমসহ অন্যদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রকাশক : শহিদুল ইসলাম
সম্পাদক : এম,এস,এ রেজা
প্রকাশক : 01746808322
সম্পাদক : 01712340047
ইমেইল : dailyajkersongram@gmail.com
Copyright © 2026 দৈনিক আজকের সংগ্রাম. All rights reserved.