
হাতিয়া (নোয়াখালী)
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলার হাতিয়া পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট খন্দকার আবু ছায়েদ ইমরান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, অ্যাডভোকেট খন্দকার আবু ছায়েদ ইমরান ১৯৯১ সালে ওছখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং ১৯৯৭ সালে একই কলেজ ছাত্রদল থেকে জিএস পদে প্রার্থী হন।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত হাতিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
পরে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে হাতিয়া ইয়ংস্টার ক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব দীর্ঘ দিন পর্যন্ত পালন করেন। ইউনিয়নের নন্দকুমার গার্লস হাই স্কুল এর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পারিবারিকভাবে উনার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার মোহাম্মদ আবুল কালাম হাতিয়া উপজেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সহ সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি হাতিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তাহার একমাত্র ভাই খন্দকার আরমান উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তার চাচাতো ভাই খন্দকার সোহেল বর্তমানে হাতিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছে।
এ ছাড়া ২০০১ সালে হাতিয়া ছাত্রকল্যাণ পরিষদ, নোয়াখালীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হাতিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। বর্তমানে আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক তিনি একজন বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মেয়র পদে আগ্রহের বিষয়ে অ্যাডভোকেট খন্দকার আবু ছায়েদ ইমরান বলেন আমি দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার নিরীহ মানুষের সঙ্গে রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত আছি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় নিয়েই আমার পথচলা। সুযোগ পেলে হাতিয়া পৌরসভাকে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক, নিরাপদ ও পরিকল্পিত পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলে কাজ করতে চাই। নাগরিকদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পৌরসভার প্রতিটি নাগরিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা আমার অগ্রাধিকার।
দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই।”
তাঁর সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, আইনি জ্ঞান এবং জনবান্ধ জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে মেয়র পদের একজন সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রেখেছে।
দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে তাঁর বিজয়ের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল বলে মনে করছেন তাঁরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, অ্যাডভোকেট খন্দকার ইমরান মেয়র নির্বাচিত হলে পৌরসভার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
সব মিলিয়ে আসন্ন হাতিয়া পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে মেয়র পদে অ্যাডভোকেট খন্দকার ইমরানকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় মনোনয়নের দৌড়ে তিনি কতটা এগিয়ে থাকতে পারেন।