সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আ. লীগের ১৩ নেতাকর্মী আ’ট’ক পাঁচবিবিতে ওসির অ’ভি’যা’নে মা’দ’ক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে ১৬০ বোতল ফা’য়া’র’ডি’ল উ’দ্ধা’র কুমিল্লায় ১০-বিজিবির অ’ভি’যা’নে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি উ’দ্বা’র কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়ায় পৃথক অ’ভি’যা’নে ২৩৫০ ভারতীয় বাজিসহ গ্রে’প্তা’র-১৬ ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিল খেয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৭ শিক্ষার্থী হাসপাতালে দলীয় মনোনয়ন পেলে উন্নয়ন ও জনসেবায় কাজ করার প্রত্যয় শাহ আলমের কুমিল্লায় মা ও ভাতিজিকে কু’পি’য়ে হ’ত্যা, ছেলে আ’ট’ক বিজিবি কর্তৃক রাজশাহী সীমান্তে অ’ভি’যা’ন পরিচালনা করে ৩২ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ০১ টি কষ্টি পাথর সদৃশ্য মূল্যবান পাথরের মূ’র্তি আ’ট’ক ন‌ওগাঁর পোরশায় ট্যা’পে’ন্টা’ড’লসহ দুই মা’দ’ক কারবারি আ’ট’ক নিয়ামতপুরে ৫০০ গ্রাম গাঁ’জা’সহ একজন গ্রে’প্তা’র

কেরানীগঞ্জে ফ্ল্যাট ‘মর্টগেজ’ প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন আজিজুল

  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১৪০ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি:

ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জে বসবাসের জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে চলে আসছে ভবন মালিকদের কাছ থেকে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার বিকল্প হিসেবে দীর্ঘমেয়াদে বন্দোবস্ত, যা সেখানে মর্টগেজ নামে পরিচিত। শুরুতে এ ব্যবস্থা উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হলেও পরে প্রতারণার বিষয়টি জেঁকে বসে। দেখা গেছে, ভবন বা ফ্ল্যাটের মালিক একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বন্দোবস্ত দিয়ে সটকে পড়েছেন। আবার বন্দোবস্ত নিয়ে অনেকে ওই ফ্ল্যাট পুনরায় বন্দোবস্ত দিয়েছেন একাধিক ব্যক্তিকে।

এতে এখন মাথা খুঁড়ছেন ভুক্তভোগীরা।
কেরানীগঞ্জে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই বন্দোবস্ত বা মর্টগেজ পদ্ধতিতে দেখা যায়, এককালীন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে কয়েক বছরের জন্য মালিকের কাছ থেকে ফ্ল্যাটটি বসবাসের জন্য নেয় দ্বিতীয় পক্ষ। এ নিয়ে দলিল করা হয়। শর্ত থাকে, চুক্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ও গ্যাস বিল প্রদান ছাড়া কোনো অর্থ ফ্ল্যাট ব্যবহারকারীকে দিতে হবে না।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে মালিক এককালীন পাওয়া ওই পুরো অর্থ ব্যবহারকারীকে ফেরত দেবেন। এভাবে মালিক যেমন একসঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থ পান, তেমনি বন্দোবস্ত নেওয়া ব্যক্তি পরিষেবা বিল দেওয়া ছাড়া বিনা ভাড়ায় লম্বা সময় ফ্ল্যাটে বসবাস করার সুযোগ পান। মালিক অর্থ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা ফ্ল্যাটটি ছাড়েন না। সে ক্ষেত্রে নতুন চুক্তিও করা হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে।
কিন্তু বর্তমানে একই ফ্ল্যাট একাধিক ব্যক্তির কাছে বন্দোবস্ত দেওয়ার ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। এ কারণে প্রতারণার শিকার হচ্ছে অনেকে। জানা যায়, একই ফ্ল্যাট বন্দোবস্তের জন্য একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি করে মালিক লাপাত্তা হয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা বলছে, লাভের আশায় কয়েক বছরের জন্য ফ্ল্যাট বন্দোবস্ত নিয়ে এখন সমস্যার শেষ নেই। দলিল ঠিক থাকলেও একই রকম কাগজ রয়েছে একাধিক পরিবারের কাছে।

সম্প্রতি কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের কিছু এলাকা ঘুরে এমন ভোগান্তিতে পড়া একটি পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। শুভাঢ্যার আমিনপাড়া মহুরীপট্টিতে জনৈক আজিজুল হক তার ভবনের একটি ফ্লাট মর্টগেজ বাবদ নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে একটি চুক্তি সম্পাদন করেন সেলিনা বেগমের সাথে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সেলিনা বেগম ঐ ফ্লাটে নিজে না থাকলে ফ্লাটের ভাড়া তিনি পাবেন কিন্তু ৬ মাস ভাড়া,দেওয়ার পরে আজিজুল আর তাকে ভাড়া দেয় না। এ নিয়ে আজিজুলের সাথে বারবার কথা বললেও তিনি এতে কোন কর্ণপাত করেন নাই। পরবর্তিতে সেলিনা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মর্টগেজ বাবদ দেওয়া ৫ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে অনেক টালবাহানা করে অবশেষ তাকে ৩ টি চেক প্রদান করে যার একটি চেকের ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করার পরে বাকি চেকের টাকা আর উত্তোলন করতে পারেন নাই এবং এখন তিনি টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারতেছেন না
আজিজুল একই ফ্লাট তিন থেকে চারটি পরিবারের কাছে মর্টগেজ দিয়েছেন বলে জানান বাসিন্দারা। যাদের প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে মর্টগেজ নেওয়ার দলিল।

বন্দোবস্ত নেওয়া সেলিনা বেগম বলেন, ‘কষ্টের টাকায় এমন ঝামেলায় পড়ব ভাবিনি।

এ বিষয়টি নিয়ে আজিজুলের সাথে এলাকার লোক মারফত অনেকবার আপোষ মিমাংসা বৈঠকে বসতে চাইলেও তিনি তাদের কোন ডাকে সাড়া না দিয়ে উল্টো তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরী করার সুবাদে সেলিনা বেগমকে উল্টা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
সম্প্রতি আজিজুল তার বাড়ি গোপনে বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পায়তারা করতেছেন বলে জানা যায়।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আজিজুলের মোবাইল ফোন নম্বরে বেশ কয়েকবার কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তিতে তার সাথে কথা বললে তিনি জানান বিষয়টি নিয়ে যেহেতু আদালতে মামলা চলছে তাই তিনি এই বিষয় নিয়ে কোনরকম আপোষ মিমাংসা করবেন না, সেলিনা বেগমকে তার টাকা কোর্টের থেকেই নিতে হবে। এমনকি এক পর্যায়ে এই প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে বলেন এই বিষয়ে কথা বলার সাংবাদিকের কোন অধিকার নাই আর ২/৫ জন সাংবাদিক তার পকেটে থাকে এবং ভবিষ্যতে যেনে এই বিষয়ে কোনকিছু জানার জন্য তাকে কল দিয়ে বিরক্ত না করা হয়, আর যদি তারপরও কল দিয়ে কোন তথ্য জানতে চাওয়া হয় তাহলে এর পরিণতি ভালো হবে না।

ভুক্তভোগী সেলিনা বেগম সহ এলাকাবাসী দাবী জানান আজিজুলের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যাবস্হা গ্রহণ করা হোক যাতে করে আর কেউ এই ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিতে না পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2022 daily Ajker Songram
Customized By Shakil IT Park