
নুর আলম
চীফ রিপোর্টার:
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের বাতির চর (৬নং মৌজা) এলাকায় কেটে রাখা ধানের পালা ও কাশফুলে আগুন দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। এতে প্রায় ৬লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী মোস্তফা খান (৫০)।
গত সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসময় আগুন নেভাতে এসে উপস্থিত জনতা স্থানীয় ৪’জনকে আগুন লাগানোর অভিযোগে আটক করে। পরে তাদের স্থানীয় পঞ্চায়েতের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান ভুক্তভোগী মোস্তফা খান।
ভুক্তভোগী মোস্তফা খান আজকের সংগ্রাম’কে অভিযোগ করে বলেন, তার প্রায় ১০০মন ধান পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি একটি কাশফুল বাগান ধ্বংস করা হয়েছে। ১লক্ষ ৭০হাজার টাকায় ক্রয়কৃত ওই কাশফুল গুলোর বিক্রয় মূল্য ছিলো প্রায় ৩লক্ষাধিক টাকা।
সরজমিন গেলে স্থানীয় কয়েকজন জানান, কাশফুলের লড়া দিয়ে পানের বড়ায় ছাউনি দেয়া হয়। তাই কাশফুল লড়ার অনেক দাম। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রায় ১০’বিঘে জমির ধান ও প্রায় ৫০’বিঘে জমির কাশফুল পুড়ে গেছে।
এই ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল হাসান সোহেল, জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জামাল হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও স্থানীয় চেয়ারম্যান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জামাল হোসেন আজকের সংগ্রাম’কে বলেন, কাশফুল বন পান গাছের বড়ার ছাউনি তৈরিতে কাজে লাগে। তাই এর চাহিদা প্রচুর। প্রতিবছর এই সময়টা এগুলো কাটার উত্তম সময়। এসময় কাশফুলের লড়া শুকনো থাকে। তাই আগুন লাগলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল হাসান সোহেল বলেন, জাজিরাতে শত্রুতার জেরে ফসল নষ্ট করার প্রকোপ বেড়েছে। এটা ঘৃণিত ও নিন্দিত একটি কাজ। আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ভুক্তভোগীকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহোযোগিতা করা হবে।
এই বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নিবো।