
বাবলু শেখ রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ী সদর উপজেলা আলীপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের হমদমপুর এলাকার বারবাকপুর গ্রামের মোঃ কেশু খার ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মোঃ সোহেল খার স্ত্রী মোছাম্মৎ নুরজাহান বেগম ২৫ কে তার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রেখেদিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন নুরজাহানের পিতা মোঃ নজরুল মন্ডল ।
প্রবাসী সোহেলের ভাবী ফাতেমা বেগম জানান প্রতিদিনের মতো নুরজাহান তার নিজ ঘরে পাঁচ বছরের বাচ্চাকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন , নুরজাহান বেগম সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি কড়ায় আমরা ডাকতে থাকি , কোন সারা শব্দ না পেয়ে আমার মেয়ে জানালা দিয়ে উঁকি মেরে আফসা, আফসা দেখতে পায় তার কাকি আম্মা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে , চিৎকার দিলে ছোট দেওর মাসুদ খা এগিয়ে এসে জানালার গ্লাস ভেঙে দেখতে পায় নুরজাহান ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে , পরবর্তীতে পাশের বাড়ির লোক এগিয়ে এসে লাথী মেরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে, জীবিত মনে করে গলার রশি কেটে নুরজাহান কে নিচে নামায় পরিবারের সদস্যরা ।
পরিবারের সদস্যরা এই প্রতিবেদককে দরজা ভাঙার কথা বললেও সিটকিলির রড বাঁকা হওয়ার কোন নমুনা দেখা যায়নী সরেজমিনে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফাতেমা বলেন সিটকিলি থেকে নাট খুলে যাওয়ার কারণে সিটকিলির রড বাঁকা হয়নি, ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যার কথা বললেও বৈদ্যুতিক ফ্যানের কোন পাখা বাঁকা হওয়াসহ কোন ইস্পট এর চিহ্ন পাওয়া যায়নি ।
উভায় পরিবারের সদস্যরা জানায় সোহেল খা ও নুরজাহান কে ২০২০ সালে পরিবারের সদস্যদের মতামতের সিদ্ধান্তে পারিবারীক ভাবে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর দাম্পত্য জীবন ভালই কাটছিলেন তাদের , নুরজাহানের ভাই নয়ন মন্ডল বলেন অর্থবিত্তের লোভে হঠাৎ নুরজাহানের উপরে নেমে আসে কালো মেঘের ছায়া , সেই কালো মেঘের ছায়ার আড়ালে থাকা হায়নাদের কারনে নেমে আসে আমার বোনের উপরে অকাল মৃত্যু , অর্থের লোভে হায়নার দল আমার পাঁচ বছর বয়সী ভাগ্নি হালিমা কে করলো এতিম , ছোট্ট অবুঝ শিশুটি মায়ের কবরের দিকে ফির ফিরিয়ে তাকিয়ে দু চোখের পানি অধরে ঝরছে, এতিম হালিমার এই দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীর চোখের কোনে পানি আসলেও এই অবুঝ শিশুর কান্নায় মন গলাতে পারেনি সোহেলের পরিবারের সদস্যদের ।
পোসমাডাম শেষে নজরুল মন্ডল মেয়ে নুরজাহানের লাশ নিয়ে যায় দাফনের জন্য তার নিজ বাড়িতে , সেখানে জানাজা ও দাফনে অংশ নেয়নি সৌদি প্রবাসী সোহেলের পরিবারের কোন সদস্য ।
নজরুল মন্ডল জানায় আমার মেয়ের বিয়ের সময়ে যৌতুক হিসেবে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়ার কথা থাকলেও আমি গরিব মানুষ সেই যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হই , দীর্ঘদিন যাবত সেই যৌতুকের টাকার জন্য আমার মেয়ে দীর্ঘদিন যাবত নির্যাতনের শিকার হয়, গরিব বাবা হিসেবে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির পরিবারের নির্যাতন সহ্য করতে হয়।
নুরজাহানের ভাই নয়ন মন্ডল জানায় আমার বোনের ননদের জামাইকে বিদেশ পাঠানোর জন্য আমার বোনের পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার জোরপূর্বক বিক্রি করে টাকা নেয় তারা, আমার বোন টাকা ফেরত চাওয়ায় দীর্ঘদিন যাবত পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল, মৃত্যুর আগের দিন সৌদি আরব থেকে আমার দুলাভাই সোহেল আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন তোমার বোনকে বাড়িতে না নিয়ে গেলে মেরে ফেলা হবে , সেই কথাই যে সত্য হবে বুঝতে পারিনি, যদি বুঝতে পারতাম তাহলে হয়তো অকালে বোনের পাণ হারাতে হত না, নয়ন মন্ডল আরো বলেন প্রবাসী সোহেলের নির্দেশে তার ভাই মাসুদ খাঁ সহ পরিবারের সদস্যরা আমার বোনকে হত্যা করেছে ।
সোহেলের ভাবি ফাতেমার নিকট মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে বলেন স্বামী স্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্বের কারণে এমন ঘটনা হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন , তবে দেওর মাসুদের সঙ্গে ভাবি নুরজাহানের সুসম্পর্ক ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানায় । আলিপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের হোগলাডাঙ্গী গ্রামের মোঃ নজরুল মন্ডলের মেয়ে মোছাম্মদ নুরজাহান বেগম একই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বারবাকপুর গ্রামের কেশু খার ছেলে প্রবাসী সোহেল খার, দাম্পত্য জীবনে হালিমা নামে পাঁচ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে ।
এ বিষয়ে নজরুল মন্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা হয়নি বলে নিশ্চিত করেন নজরুল মন্ডল , তবে নজরুল মন্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে প্রস্তুতি চলছে,এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন নজরুল মন্ডল ও তার ছেলে নয়ন মন্ডল ।
আলিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলিম বলেন এই মৃত্যুর বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে, পোসমাডাম শেষে লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন এই ইউপি সদস্য ।