
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
ওহাব সরকার :
বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড নারচী গ্রামের সোনারপাড়া এলাকায় এক ভণ্ড হুজুরকে হাতেনাতে আটক করেছে এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১২টার দিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তি নিজেকে মাদ্রাসার শিক্ষক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। প্রথমে সে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে সহানুভূতিশীল আচরণ করে। , পরে এতিমখানার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেই । পাশাপাশি কোরআন শরীফ বিক্রির নামেও টাকা তুলতে থাকে। এভাবে ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করে।
কিছুক্ষণ পর ভণ্ড হুজুর দাবি করে যে,আমি পানি পড়া ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ নিরাময় করতে পারি। এই অজুহাতে সে গ্রামের কয়েকজন নারীকে ডেকে আনে এবং পানি পড়া দেওয়ার নামে তাদের শরীরে অশোভন আচরণ করে। নারীরা প্রথমে লজ্জায় কিছু বলতে না পারলেও, একপর্যায়ে এক নারী সাহস করে চিৎকার দিলে গ্রামের মানুষ ছুটে আসে।
পালানোর চেষ্টা করলেও এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে সাবাগ্রাম মাদ্রাসার শিক্ষক বলে দাবি করে। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, সে আসলে ওই মাদ্রাসার কেউ নয়। বরং প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়িয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় এবং নারী লাঞ্ছনার মতো ঘৃণ্য কাজ করে।
এলাকাবাসী আরও জানায়, এর আগেও সে বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের অপকর্ম করেছে। তাছাড়া তার জামাতের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় ফাঁস হয়। ধর্ম ও মাদ্রাসার নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা এবং নারীদের অশ্লীলতাহানিই ছিল তার আসল উদ্দেশ্য।
ঘটনার খবর দ্রুত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান—এ ধরনের ভণ্ড হুজুরদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা বা লাঞ্ছনার শিকার হতে না হয়।