
নুর আলম
চীফ রিপোর্টার:
স্বামীর ব্যাবসায় সহোযোগিতা করতে দু’বারে স্বামীকে দেড় লাখ টাকা তুলে দেন আঁখিনুর। ব্যাবসায় লোকসান খেয়ে আরও ১’লাখ টাকা লোন তুলে দিতে চাপ দেন আঁখিনুরের স্বামী জাহাঙ্গীর শেখ (৪৪) কিন্তু এবার টাকা তুলতে বাদ সাধেন স্ত্রী আঁখিনুর। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আঁখিনুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্বামী জাহাঙ্গীর।
স্ত্রীকে হত্যা করতে নেন বন্ধুর সাহায্য। বন্ধু শাহ আলম বেপারী (৪৪) এর সহোযোগিতায় স্ত্রী আঁখিনুরকে হত্যা করতে সক্ষম হন জাহাঙ্গীর। লাশ পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে ঠান্ডা মাথায় প্লান করে থানায় গিয়ে নিজেই স্ত্রী নিখোঁজের ডায়েরি লিখেন জাহাঙ্গীর।
এই পর্যন্ত ঠিকঠাক প্লান অনুযায়ী হলেও পুলিশের বিচক্ষণতা এবং প্রযুক্তি তাদের প্লান ভেস্তে দেয়।
৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে নাড়িয়া থানার পাঁচগাও গ্রামের চন্ডিপুর লঞ্চঘাটে অজ্ঞাত পরিচয়ে আঁখিনুরের লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। তার মুখে কস্টেপ এবং হাত-পা বাঁধা ছিলো। লাশটি অজ্ঞাত থাকায় পরিচয় সনাক্তে ফরিদপুর ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ইউনিটের ফিঙ্গারপ্রিন্ট এক্সপার্টদের ডাকা হলে তারা জানান, লাশটি লৌহজং থানার ভেজগাঁও ইউনিয়নের জোরপুর ঢুলুগাঁও এলাকার মোঃ আফজাল শেখের মেয়ে আঁখিনুর আক্তার(৩০) এর। পরে পোস্টমর্টেম শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
পরে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নাজমুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন করার পাশাপাশি আসামিকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার (২২-নভেম্বর) দুপুরে নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন চাঁদপুর নৌ-পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
তিনি জানান লোন তুলতে অস্বীকৃতি জানালে আঁখিনুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্বামী জাহাঙ্গীর শেখ। পরিকল্পনা অনুযায়ী বন্ধু শাহ আলম ব্যপারীকে সাথে নিয়ে গত ১-নভেম্বর আখিঁনুরকে ট্রলারে করে জাজিরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। আসার সময় আঁখিনুরকে বলা হয়েছিলো জাজিরায় লোন তুলতে যাচ্ছে তারা।
দুপুর দেড়টায় ট্রলারটি মাঝ নদীতে এলে আঁখিনুরকে পিছন থেকে ঘাড় ধরে ট্রলারে ফেলে দেন শাহ আলম। পরে স্বামী জাহাঙ্গীর তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন। বুকের উপর বসে গলা চেপে শ্বাস বন্ধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন স্বামী জাহাঙ্গীর। পরে মুখে কস্টেপ দিয়ে বেঁধে নদীতে লাশ ফেলে লৌহজং থানায় স্ত্রী নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করেন স্বামী জাহাঙ্গীর।
লাশ উদ্ধারের পর সনাক্ত হলে আঁখিনুরের বাবা বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার সূত্র ধরে মাত্র ১৬দিনেই রহস্য উন্মোচন এবং আসামি গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় নৌ-পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে নাড়িয়া থানার পাঁচগাও গ্রামের চন্ডিপুর লঞ্চঘাটে অজ্ঞাত (৩০) বছরের একজন মহিলার লাশ উদ্ধার করে সুরেশ্বর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি।