
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে অনশন করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ আদুরী খাতুন (২৪) ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নূর ইসলামের মেয়ে। তাঁর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বৃদ্ধমরিচ পাইকপাড়া গ্রামের মো. আনছার ফকিরের ছেলে হাবিবুর রহমানের প্রায় পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিক সম্মতিতে গত বছরের ৩ নভেম্বর ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ের তিন মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে আদুরীকে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়ার কথা ছিল। তবে গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) আদুরী জানতে পারেন, তাঁর স্বামী হাবিবুর রহমান নাকি অধিক যৌতুকের আশায় অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং শ্বশুর-শাশুড়ির পরামর্শে কোর্টের মাধ্যমে তাঁকে তালাক দিয়েছেন।
এর প্রতিবাদে পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আদুরী খাতুন স্ত্রী হিসেবে মর্যাদা পাওয়ার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন। অনশনকালে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, স্বামীর জন্য তিনি সবকিছু ত্যাগ করেছেন। তাঁকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করলে তিনি ওই বাড়িতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন বলেও জানান।
অভিযোগ রয়েছে, অনশন চলাকালে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাসুর ও দেবর মিলে তাঁকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁর মামা মো. হাফেজুল ইসলাম ও মা আয়জান খাতুন স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় শনিবার রাত (১০ জানুয়ারি) আদুরীর মা আয়জান খাতুন বাদী হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। প্রতিবেশীরা জানান, পুলিশ ও সাংবাদিকদের আসার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মোস্তাফিজুর রহমান রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে প্রথম আলোকে বলেন, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আনছার ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।