
রানা মাহমুদঃ
ঢাকা জেলার অন্তর্গত কেরানীগঞ্জের গদারবাগ
সোনারবাংলা আবাসিক এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
এলাকাবাসী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই হুমায়ুন এর তথ্য মতে মৃত ব্যাক্তি তাহার ভাড়া বাসায় সকলের অগোচরে নিজের ব্যাবহার কৃত গামছার সাহায্যে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
মৃত মো: স্বপন খান (৩১) পিতা: মৃত – বাবু খান, মাতা মৃত – মাকসুদা ভেদরগঞ্জ শরিয়তপুরের বাসিন্দা।
তিনি দীর্ঘবছর যাবত ঢাকাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যায়গায় বসবাস করতো।
মৃত স্বপন খানের আপন মামা শাহজাহান জানান, মৃত স্বপনের বাবা এবং মা দুজনেই স্বপনকে ছোট রেখে মারা যান, তার পর হতেই তিনি তার ভাগিনা স্বপনকে মানুষ করেন এবং ভালো মন্দ দেখবাল করেন।
মৃত স্বপনের স্ত্রী রাবেয়া জানুয়ারির ৬ (ছয়) তারিখ স্ট্রোক করে মারা যায়, স্বপন রাবেয়া দম্পতির ১৬ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
মৃত স্বপনের বন্ধু নাজমুল (৩১) জানান, তিনি এবং স্বপন একই বাসায় থাকতো ২১-০২-২৬ ইং তারিখ রাতে তারা দুজনে কথা বলে এবং যে যার মতো করে রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পরে।
ভোর রাতে সেহরি শেষে নাজমুল স্বপনের দরজার সামনে এসে ডাকাডাকি করে এবং মোবাইল ফোনে কল করলেও ফোন রিসিভ হয় নাই, পরে সে তার কর্মস্থল ইসলামপুরে চলে যায়।
সকাল ১০ (দশ) ঘটিকার সময় আবারও ফোন করলে ফোন রিসিভ না হলে তিনি স্বপনের মামা শাহজাহানকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান যে তাকে ডাকাডাকি করে ও ফোনে কল করে পাওয়া যাচ্ছে না,
জানা যায় মামা শাহজাহান ঢাকার বঙ্গ বাজার এলাকায় থাকেন তিনি সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে ভাগিনা স্বপনের বাসা গদারবাগে চলে আসেন এবং বাসার দরজা ভেতর হতে লক করা দেখে ডাকাডাকি করেন, কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি জরুরি সেবা ৯৯৯ কল করেন এবং কল পেয়ে কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার একটি টিক বেলা আনুমানিক ১:০০ ঘটিকার সময় এসে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে এবং স্বপনের মৃতদেহ দেখতে পায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকাবাসি জানান, ঘর ভিতর হতে বন্ধ থাকলেও ভিতরের একটি জানালা খোলা দেখতে পায়। এলাকাবাসীর ধারনা এটা কোনো আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা। তারা আরও বলেন জানালার গ্রিল ও ফ্লোরের ব্যাবধান মাত্র ৪ ফুট তাতে করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করা কেনো মতেই সম্ভব না।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই হুমায়ুনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন এটা হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটা লাশের ময়না তদন্তের পরেই বলা যাবে।
ঘর তল্লাশি করে পুলিশ সেখানে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায় এবং সেটাতে লেখা আছে আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।
এসআই হুমায়ুন আরও বলেন আমরা মৃতের অভিভাবক শাহজাহান ও মৃত স্বপনের বন্ধু নাজমুল কে নিয়ে থানায় যাচ্ছি মামলার প্রক্রিয়া সম্পাদন করবো এবং লাশ ময়না তদন্তে পাঠাবো।
কিন্তু লাশ ময়না তদন্তের জন্য না পাঠিয়ে লাশ আত্মীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে এসআই হুমায়ুন এর মুঠোফোনে ফোন করে ঘটনা ও মামলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, লাশের স্বজনরা কোনো মামলা করবে না তাই লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে তবে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রজু হবে।
কিন্তু সাধারণ মানুষ ও এলাকাবাসীর মনে রয়েছে ভিন্ন আশংকা তাদের ধারনা এটা কেনো আত্মহত্যা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা।