
বাবলু শেখ
রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নং ফেরিঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহন ফেরীতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীসহ পদ্মা নদীতে ডুবে যায়,২৫ শে মার্চ ২০২৬ বুধবার কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা হতে যাত্রীসহ সৌহার্দ্য পরিবহন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে বিকেল পনে পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে , ফেরিতে উঠতে গিয়ে দ্রুত গতি থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় । আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে কোনরকমে বাসে থাকা ৭ জন যাত্রী বের হয়ে জনতার সহায়তায় শাস্ত্রীয়ে পাড়ে ওঠে প্রাণে বেঁচে যায় ।
মুহূর্তেই ঘাটে থাকা এলাকাবাসী ও জনতার হইচই , বেঁচে যাওয়া স্বজনদের আহাজারি ও শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আসে পাশের এলাকা,বেঁচে যাওয়া এক শিশুর হৃদয় বেদনায়ক কান্নায় উপস্থিত কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি , শিশুটি চিৎকার করে বলতেছিলো মা তুই আয় মা তুই কই, মা আমাকে একা রেখে যাসনা আমি কাকে নিয়ে থাকবো আমি এতিম হয়ে গেলাম মা তুই আমাকে এতিম করে যাস না, আমি তোকে ছাড়া একা থাকবো কি করে মাগো মা আমাকে একা রেখে চলে গেলি কেন । অনেক স্বজনের দেখা যায় মাথা চাপড়িয়ে আহাজারি ।
উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন হামজা, রাজবাড়ী ফরিদপুর গোয়ালন্দ সহ বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট, উদ্ধার অভিযানে আরো অংশগ্রহণ করে ঢাকা থেকে আসা ডুবুরী দল ।
উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা ।
প্রায় ৭ ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধ উদ্ধার অভিযানে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহন টি উদ্ধার করা হয় । রাতভর বিরতিহীন চলে উদ্ধার অভিযান এক এক করে বেরিয়ে আসে ২৬ টি মৃতদেহ ঘাট এলাকার আশেপাশে সহ হাসপাতালে স্বজনদের অপেক্ষা , কেউ আসছেন সন্তানের খোঁজে কেউ আবার বাবা কেউ করছে বোনের অপেক্ষা ।
সজনরা তাদের প্রিয় জনদের জীবিত পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে রয়েছে লাশের অপেক্ষায়, স্বজনদের কান্নায় যেন থমকে গিয়েছে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা এই বেদনা সইবার না বলে আহাজারি স্বজনদের। অনেকের
কানতে কানতে চোখের পানি শুকিয়ে গিয়েছে তবু প্রিয়জনদের জীবিত ফিরে পেলেন না ।
রাতের মধ্যেই মৃতদেহ গুলো নিয়ে যাওয়া হয় রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে সেখান থেকে প্রশাসনের মাধ্যমে মৃতদেহ গুলো হস্তান্তর করা হয় স্বজনদের নিকট , হস্তান্ত কৃত মড়াদেহের মধ্যে রয়েছে
১)রেহেনা আক্তার(৬১)
স্বামী- মৃত ইসমাঈল হোসেন খান,
গ্রাম- ভবানীপুর, লালমিয়া সড়ক, রাজবাড়ী পৌরসভা, রাজবাড়ী।
২) মর্জিনা খাতুন(৫৬)
স্বামী- মো: আবু বক্কর সিদ্দিক, গ্রাম- মজমপুর, ওয়ার্ড নং-১৮, কুষ্টিয়া পৌরসভা, কুষ্টিয়া।
৩) রাজীব বিশ্বাস(২৮)
পিতা- হিমাংশু বিশ্বাস, গ্রাম+ডাকঘর – খাগড়বাড়ীয়া, থানা- কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া।
৪) জহুরা অন্তি(২৭)
পিতা- মৃত ডা: আবদুল আলীম, গ্রাম- সজ্জনকান্দা, ৫ নং ওয়ার্ড, রাজবাড়ী পৌরসভা।
৫) কাজী সাইফ(৩০)
পিতা- কাজী মুকুল, গ্রাম- সজ্জনকান্দা, ৫ নং ওয়ার্ড, রাজবাড়ী পৌরসভা।
৬) মর্জিনা আক্তার(৩২)
স্বামী- রেজাউল করিম, গ্রাম- চর বারকিপাড়া, ইউপি- ছোট ভাকলা, উপজেলা- গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী।
৭) ইস্রাফিল(৩)
পিতা- দেলোয়ার হোসেন, গ্রাম- ধুশুন্দু, ইউপি- সমাজপুর, উপজেলা-খোকসা, কুষ্টিয়া।
৮) সাফিয়া আক্তার রিন্থি(১২), পিতা-রেজাউল করিম, গ্রাম- চর বারকিপাড়া, ইউপি- ছোট ভাকলা, উপজেলা- গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী।
৯) ফাইজ শাহানূর(১১)
পিতা- বিল্লাল হোসেন, গ্রাম- ভবানীপুর, ইউপি- বোয়ালিয়া, উপজেলা-কালুখালী, রাজবাড়ী।
১০) তাজবিদ(৭)
পিতা- কেবিএম মুসাব্বির, ৫ং ওয়ার্ড, সজ্জনকান্দা, রাজবাড়ী পৌরসভা, রাজবাড়ী।
১১) গাড়ীর চালক,আরমান খান(৩১), পিতা- আরব খান, পশ্চিম খালখোলা, উপজেলা- বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী।
১২) নাজমিরা@ জেসমিন(৩০), স্বামী- আব্দুল আজিজ,
গ্রাম- বেলগাছি, ইউপি- মদেন্দ্রপুর, উপজেলা-কালুখালী, রাজবাড়ী।
১৩) লিমা আক্তার(২৬)
পিতা- সোবাহান মন্ডল, গ্রাম-রামচন্দ্রপুর, ইউপি- মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী।
১৪) জোস্ন্যা(৩৫)
স্বামী- মান্নান মন্ডল, গ্রাম- বড় চর বেনি নগর, ইউপি- মিজানপুর, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী।
১৫) মুক্তা খানম(৩৮)
স্বামী- মৃত জাহাঙ্গীর আলম, পিতা- সিদ্দিকুর রহমান, গ্রাম- নোয়াধা, ইউপি- আমতলী, উপজেলা-কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জ।
১৬) নাছিমা(৪০)
স্বামী- মৃত নূর ইসলাম,গ্রাম-মথুয়ারাই, ইউপি-পলাশবাড়ী, উপজেলা-পার্বতীপুর , দিনাজপুর ।১৭) আয়েশা আক্তার সুমা(৩০), স্বামী- মো: নুরুজ্জামান, গ্রাম- বাগধুনিয়া পালপাড়া, উপজেলা-আশুলিয়া, জেলা ঢাকা ।
১৮) সোহা আক্তার(১১)
পিতা- সোহেল মোল্লা,
পৌরসভা, রাজবাড়ী।
১৯) আয়েশা সিদ্দিকা(১৩)
পিতা- গিয়াসউদ্দিন রিপন, গ্রাম+ইউপি-সমসপুর, উপজেলা-খোকসা, কুষ্টিয়া।
২০) আরমান(৭ মাস),
পিতা- নুরুজ্জামান, গ্রাম- খন্দকবাড়িয়া, ইউপি-কাচেরকোল, উপজেলা-শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।
২১) আব্দুর রহমান(৬)
পিতা-আব্দুল আজিজ, গ্রাম- মহেন্দ্রপুর, ইউপি-রতনদিয়া, উপজেলা-কালুখালী, রাজবাড়ী।
২২) সাবিত হাসান(৮)
পিতা- শরিফুল ইসলাম,
গ্রাম- আগমারাই, ইউপি-দাদশি, রাজবাড়ী সদর, রাজবাড়ী।
২৩) আহনাফ তাহমিদ খান(২৫)
পিতা-ইসমাইল হোসেন খান,
গ্রাম-ভবানীপুর, ৮নং ওয়ার্ড, রাজবাড়ী সদর।
২৪) :উজ্জ্বল
পিতা :মজনু
কালুখালী
২৫) আশরাফুল
পিতা- আফসার মণ্ডল
চর মদাপুর, কালুখালী, রাজবাড়ী
২৬) জাহাঙ্গীর
পিতা- সানাউল্লাহ
কালুখালী, রাজবাড়ী।
ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে ২৬ মৃত দেহের পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেয়া হয়েছে । প্রত্যেকটির মৃত পরিবারের নিকট ২৫ হাজার টাকা ও আহত পরিবারের নিকট ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয় ।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকৃত ২৬ টি মৃতদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে ।
এবং স্বজনদের নিকট হতে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় বেশিরভাগ মৃতদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে ।
এ বিষয়ে পাঁচ বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তিন কার্য দিবসের মধ্যে কমিটির রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে ।
দুর্ঘটনার খবর শুনে সংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ঘটনা স্থলে ছুটে যান,এ সময় তিনি বলেন উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেন ।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন ।