
বাবলু শেখ
রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় এক সাংবাদিককে গ্রেফতারের হুমকি ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, তিনি শেখ ফিলিং স্টেশন, মোহনপুর এলাকায় তেল সংগ্রহ করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসিল্যান্ড তার সরকারি গাড়িতে তেল নেওয়ার পর অতিরিক্ত ২৫ লিটার তেল পাঁচটি ৫ লিটারের বোতলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিকের প্রতি ক্ষুব্ধ হন তিনি এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকে গ্রেফতারের হুমকিও দেওয়া হয়।
সাংবাদিক বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, “আমি শুধুমাত্র তথ্য জানার জন্য প্রশ্ন করেছি। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়ায় আমাকে ভয় দেখানো হয়েছে এবং আমার পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের এমন আচরণ স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা মনে করেন, দায়িত্ব পালনের নামে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তবে তা আইন ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, “Allocation of Business Rules” অনুযায়ী প্রতিটি কর্মকর্তার দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারিত। এর বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক অনিয়ম হিসেবে গণ্য হতে পারে। একইসঙ্গে “General Financial Rules (GFR)” ও নিয়ন্ত্রণ/অডিট নীতিমালার আলোকে দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করলে তা অডিট আপত্তিযোগ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ অনুযায়ী মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া বা ভয় দেখানো এই মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৫০৬ অনুযায়ী কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা ধারা ৩৭৯ বা ৩৮৪-এর আওতায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মত দেন আইনজীবীরা।
এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা অথবা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেজবাহ উদ্দিন জানান, এখানে হয়তো কোন ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে একজন সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে এ্যাসিল্যান্ডের এ ধরনের কাজ করার কোন সুযোগ নাই। এরকম হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তবে সপ্তাহে এক বার উপজেলায় জরুরী কাজে নিয়োজিত ব্যাক্তিদের মোটর সাইকেলে তেল দেওয়া হয়। আজ তাদের টোকেনের মাধ্যমে তেল দেওয়া হয়েছে।