
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় একই দিনে পৃথক স্থান থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে এক ব্যক্তির মৃত্যু রহস্যজনক হওয়ায় হত্যার সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ১২ নম্বর সালান্দর ইউনিয়নের ফিডমিল পাড়ায় মো. আজাদ হোসেন (আদু) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ শনিবার সকালে তার নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। তার বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৪৮ বছর।
স্থানীয়রা জানান, মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে চোখ ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যা ঘটনাটিকে রহস্যজনক করে তুলেছে। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
জানা গেছে, আজাদ হোসেনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও শহরের বিআরটিসি কাউন্টারের পাশে হলেও তিনি প্রায় এক দশক ধরে ফিডমিল পাড়ায় একাই বসবাস করছিলেন। তিনি পেশায় মুরগি ও ডিম ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে কীভাবে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
অপরদিকে, একই দিনে সদর উপজেলার সেনুয়াপাড়া এলাকায় মোহাম্মদ পারভেজ রানা (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা এবং মোখলেসুর রহমান সাগরের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পারভেজ রানা দীর্ঘদিন ধরে জুয়া বা ক্যাসিনো আসক্ত ছিলেন এবং এ কারণে বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই আর্থিক চাপ থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
শনিবার সকালে স্থানীয়রা একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাই গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।