
নুর আলম:
শরীয়তপুরের জাজিরা সদর ইউনিয়নের মনিরুদ্দিন সরদার কান্দি গ্রামে নুসরাত জাহান (১৬) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। নিহত নুসরাত জাহান জাজিরা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের দুলাল মাদবরে বড় মেয়ে।
বৃহস্পতিবার (১-ডিসেম্বর) সকালে স্বামী রাসেল ছেইয়ালের সাথে ঝগড়া করে ঘরের আঁড়ার সাথে ফাঁস দেন নুসরাত।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১১ মাস আগে নুসরাত জাহান এবং জাজিরা ইউনিয়নের মোহাম্মদ সৌয়ালের ছেলে রাসেল সৌয়াল ভালোবেসে পালিয়ে বিয়ে করে। কিছুদিন পর পারিবারিক ভাবে দুই পরিবারই বিয়ের সম্মতি দেয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার স্বামী রাসেলের সাথে ঝগড়া হয় নুসরাতের। এরপর দরজা জানালা বন্ধ করে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দেয় নুসরাত। পরে পাশের বাড়ির শাজাহান চৌকিদারের মেয়ে আরিফা আক্তার নুসরাতকে মিষ্টি দিতে এসে দেখেন নুসরাত ঘরের চালার সাথে ঝুলছে। এরপর চিৎকার করলে আশপাশের লোক এসে ঘরের দরজা ভেঙে নুসরাতকে উদ্ধার করে। এরপর নুসরাতকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এদিকে নুসরাতের পরিবারের দাবি যৌতুকের জন্য নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে। এবং তা সুকৌশলে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হচ্ছে।
নুসরাত জাহানের নানা আতিকুর রহমান আতিক অভিযোগ করে বলেন, আমার নাতনী নুসরাত জাহানকে যৌতুকের জন্য হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাঃ সাব্রিনা জানান, আমাদের কাছে নিয়ে আসার আগেই নুসরাত জাহান মারা গিয়েছিলো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি গলায় ফাঁস লেগেই মৃত্যু হয়েছে তার।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, নুসরাতের লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় নিহত নুসরাতের শশুর মোহাম্মদ ছৈয়াল ও তার ভাই ইব্রাহিম ছৈয়ালকে আটক করে থানায় তুলে দিয়েছে নুসরাতের পরিবারের লোকজন। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।