
মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী,
নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মোটরসাইকেল চোর চক্রের অন্যতম মূলহোতা শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ মে ২০২৬) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করে পুলিশের বিশেষ টিম। গ্রেপ্তারকৃত শাহিন মিয়া জলঢাকা উপজেলার খালিশা খুটামারা দীঘলটারী এলাকার মমিনুর রহমানের ছেলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মোট ১১টি চুরির মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। রোববার সকালে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে নীলফামারী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শাহিন একটি সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্র পরিচালনা করে বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও মামলার তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কিছুদিন ধরে নজরদারি চালিয়ে আসছিল জলঢাকা থানা পুলিশ। অবশেষে বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, জলঢাকায় অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। শুধু মোটরসাইকেল চুরি নয়, অটোরিকশা, অটোভ্যান, বাইসাইকেল, মোবাইল ফোন, দোকানপাট, স্বর্ণালংকার কিংবা গভীর রাতে গরু-ছাগল চুরির মতো অপরাধের সঙ্গেও যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজিসহ যেকোনো অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। তিনি আরও বলেন, জলঢাকা থানা পুলিশ ধারাবাহিক ভাবে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। যারা সাধারণ মানুষের শান্তি নষ্ট করে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত নিরলস ভাবে কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন। এদিকে মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূলহোতা শাহিন গ্রেপ্তারের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল অপরাধ দমনে পুলিশের চলমান কঠোর অবস্থান ও ধারাবাহিক অভিযানের প্রশংসা করেছেন।