
শাহেদ আহমেদ, সাতক্ষীরা
মায়ের কোলেই জন্ম, মায়ের হাত ধরেই জীবনের পথচলা। অথচ সেই সন্তানের হাতেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক বৃদ্ধা মা। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা-এ হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আপন দুই ছেলের বিরুদ্ধে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ৭৩ বছর বয়সী মোছাঃ ফজিলা বিবি।
মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সকালে উপজেলার নৈকাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান (৩৫) ও জহুর আলী গাজী (৫০) সম্পর্কে ফজিলা বিবির ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, বড় ছেলে ফজর আলী গাজীর বসতভিটার গাছপালা ও জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন অভিযুক্তরা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকিও দেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্তরা কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে ফজর আলীর বাড়িতে প্রবেশ করে একটি বড় গাছ কাটতে শুরু করেন। এ সময় বাধা দিলে ফজর আলীকে মারধর করা হয়।
মায়ের সামনে সন্তানের সংঘর্ষ— সেই দৃশ্য থামাতে এগিয়ে আসেন বৃদ্ধা ফজিলা বিবি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ছেলেদের রোষ গিয়ে পড়ে সেই মায়ের ওপরই। তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পরিবারের অন্য সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধরের শিকার হতে হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করেন।
ঘটনার সাক্ষী ফারুক হোসেন, খাদিজা বিবি ও মজিবর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত। তারা বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধা ফজিলা বিবিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন— যে মা সন্তানকে আগলে রেখে বড় করেন, শেষ বয়সে সেই মায়ের নিরাপত্তাই যদি না থাকে, তবে সমাজ কোন পথে এগোচ্ছে?
পরিবারটির দাবি, অভিযুক্তরা এখনও বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বৃদ্ধা মা তার এজাহারে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”